শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

ইসরায়েল ম্যাচ বয়কট চান আইরিশ ফুটবলার জেসন নাইট

স্পোর্টস ডেস্ক

সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬, ০৬:৩৬ পিএম

ইসরায়েল ম্যাচ বয়কট চান আইরিশ ফুটবলার জেসন নাইট

উয়েফা নেশনস লিগে ইসরায়েলের বিপক্ষে নির্ধারিত আন্তর্জাতিক ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত না হওয়ার পক্ষে নিজের স্পষ্ট অবস্থান তুলে ধরেছেন আয়ারল্যান্ডের মিডফিল্ডার জেসন নাইট।

তিনিই প্রথম আইরিশ জাতীয় দলের খেলোয়াড়, যিনি প্রকাশ্যে এই ম্যাচ বয়কটের পক্ষে নিজের মত জানালেন। সূচি অনুযায়ী আয়ারল্যান্ড ও ইসরায়েলের মধ্যকার প্রথম ম্যাচটি রোববার হাঙ্গেরির ডেব্রেসেনে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ফিরতি লেগের ম্যাচটি আগামী ৪ অক্টোবর সার্বিয়ার বাকা তোপোলায় অনুষ্ঠিত হবে। উয়েফার নির্দেশনা অনুযায়ী নিরপেক্ষ ভেন্যুতে এবং দর্শকশূন্য স্টেডিয়ামে এই ম্যাচ দুটি আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে।

নেশনস লিগে একই গ্রুপে দুই দেশ অবস্থান নেওয়ার পর থেকেই আয়ারল্যান্ডে এই ম্যাচ বর্জনের দাবি জোরালো হয়ে ওঠে। গাজায় চলমান যুদ্ধের জেরে সৃষ্ট গণঅসন্তোষের প্রভাব পড়ে ক্রীড়াঙ্গনেও। ম্যাচ দুটি বন্ধের দাবিতে আয়ারল্যান্ডে ‍‍`স্টপ দ্য গেম‍‍` শীর্ষক একটি নাগরিক প্রচারণাও পরিচালিত হচ্ছে। এমন প্রেক্ষাপটে আইরিশ ফুটবল দলের অধিনায়ক দারা ওশিয়া আগেই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, দলগতভাবেই খেলোয়াড়েরা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে যেকোনো সিদ্ধান্ত নেবেন। তবে বয়কটের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে কি না, তা নিয়ে একধরনের অনিশ্চয়তা বজায় ছিল। এর মধ্যেই জেসন নাইট নিজের ব্যক্তিগত দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করে জানান, বিদ্যমান পরিস্থিতিতে এই ম্যাচটি মাঠে গড়ানো উচিত নয়। তিনি নিশ্চিত করেন, আয়ারল্যান্ডে চলমান এই জাতীয় বিতর্ক নিয়ে দলের খেলোয়াড়দের মধ্যেও অভ্যন্তরীণ পর্যায়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।

মাঠের এই সংকটের কারণে ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন অব আয়ারল্যান্ডের (এফএআই) প্রাতিষ্ঠানিক অবস্থানও পর্যবেক্ষণে এসেছে। গত বছরের নভেম্বরে অনুষ্ঠিত সাধারণ সভায় উয়েফার কাছে ইসরায়েলকে আন্তর্জাতিক ফুটবল আসর থেকে বহিষ্কারের আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানানোর প্রস্তাব সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে সমর্থিত হয়। তবে পরবর্তীতে আইরিশ ফুটবল কর্তৃপক্ষ চলতি বছরের জুলাইয়ে নেশনস লিগের ম্যাচ দুটি খেলার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত অনুমোদন করে।

এফএআই কর্মকর্তাদের মতে, ম্যাচ বর্জন করলে উয়েফার কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা বা প্রতিযোগিতা থেকে স্থায়ীভাবে বাদ পড়ার মতো গুরুতর ঝুঁকি রয়েছে, যা সার্বিকভাবে দেশের ফুটবলের ওপর দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে।