অক্টোবর ১০, ২০২৫, ০৬:৩৯ পিএম
ফুটবলপ্রেমীদের চিরচেনা গ্রীষ্মকালীন বিশ্বকাপের সেই উৎসবমুখর দিনগুলো হয়তো আর ফিরে আসবে না। বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা-র প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনো সম্প্রতি এমন ইঙ্গিতই দিয়েছেন, যা ফুটবল ক্যালেন্ডারে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তনের সূচনা করতে পারে। তার নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, বিশ্বকাপ আয়োজিত হতে পারে শীতের নভেম্বর-ডিসেম্বরে, এমনকি মার্চ বা অক্টোবরেও।
সম্প্রতি রোমে ইউরোপীয় ক্লাবগুলোর এক সাধারণ সভায় ইনফান্তিনো বলেন, “ফুটবলকে এখন একটি ‘গ্লোবালাইজড ক্যালেন্ডারে’ নিয়ে আসতে হবে, যেখানে বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে, যেকোনো সময় খেলা সম্ভব হবে।” তিনি জলবায়ু পরিবর্তনের কথা উল্লেখ করে বলেন, “কিছু দেশে গ্রীষ্মের তীব্র গরমের কারণে জুন-জুলাই মাসে খেলা প্রায় অসম্ভব।”
তার এই মন্তব্যের পর থেকেই ২০৩৪ সালে সৌদি আরবে অনুষ্ঠিতব্য বিশ্বকাপটিও যে শীতকালে আয়োজিত হবে, তা প্রায় নিশ্চিত বলে ধরে নিচ্ছেন বিশ্লেষকরা। ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপ (নভেম্বর-ডিসেম্বর) আয়োজনের মাধ্যমে যে প্রথার সূচনা হয়েছিল, সেটিই এখন নতুন বাস্তবতা হয়ে উঠছে।
এই পরিবর্তনের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ম্যাচের সংখ্যা বৃদ্ধি। ২০২৬ সাল থেকে বিশ্বকাপ হবে ৪৮ দলের। নতুন ৩২ দলের ক্লাব বিশ্বকাপও শুরু হয়েছে। এর ফলে শীর্ষ খেলোয়াড়দের ওপর চাপ বাড়ছে। খেলোয়াড়দের আন্তর্জাতিক সংগঠন ‘ফিফপ্রো’ এরই মধ্যে বর্ধিত ম্যাচ ও অপর্যাপ্ত বিশ্রাম নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
ইনফান্তিনোর এই ‘বিপ্লব’ ফুটবল বিশ্বে এক নতুন যুগের সূচনা করছে, যেখানে ঐতিহ্যবাহী ইউরোপীয় গ্রীষ্মকালীন সূচির পরিবর্তে বাণিজ্যিক বাস্তবতা এবং বৈশ্বিক জলবায়ু পরিস্থিতিই মূল নিয়ামক হয়ে উঠছে। এর ফলে ক্লাবগুলোর মৌসুম, খেলোয়াড়দের বিশ্রাম এবং ট্রান্সফার মার্কেটের সময়সূচিতেও বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে চলেছে।



দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন