মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর, ২০২৬,

পঞ্চগড়ে স্কুল ফিডিংয়ের দুধ খেয়ে ১৭ শিক্ষার্থী হাসপাতালে

আবু সালেহ মোঃ রায়হান

অক্টোবর ৫, ২০২৬, ০৬:৫৬ পিএম

পঞ্চগড়ে স্কুল ফিডিংয়ের দুধ খেয়ে ১৭ শিক্ষার্থী হাসপাতালে

ছবি: দিনাজপুর টিভি

পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলায় সরকারি স্কুল ফিডিং কর্মসূচির প্যাকেটজাত তরল দুধ পান করার পর একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অন্তত ১৭ জন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। সোমবার (৫ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার টেপ্রিগঞ্জ ইউনিয়নের কাজীপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দুধ বিতরণের কিছুক্ষণ পরেই শিক্ষার্থীরা মাথা ঘোরা, তীব্র পেট ব্যথা ও খিঁচুনিসহ বিভিন্ন উপসর্গে আক্রান্ত হতে থাকে। অসুস্থ শিশুদের দ্রুত দেবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে চিকিৎসা শুরু করা হয়। বিতরণের আগেই দুধের মান নিয়ে শিক্ষকদের পক্ষ থেকে গুরুতর আপত্তি তোলা হয়েছিল।

বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও শিক্ষকদের বিবরণ সূত্রে জানা গেছে, দুপুরে শিক্ষার্থীদের মধ্যে রংপুর ডেইরি অ্যান্ড ফুড প্রডাক্টস লিমিটেডের আরডি নামের প্যাকেটজাত দুধ বিতরণের সময় কয়েকটি প্যাকেটে দৃশ্যমান ছিদ্র শনাক্ত হয়। এর পাশাপাশি বেশ কিছু প্যাকেটের তরল দুধ জমাট বেঁধে দইয়ের মতো হয়ে যেতে দেখে শিক্ষকরা তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি প্রধান শিক্ষক এবং সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের স্থানীয় কর্মকর্তা মনোয়ার হোসেনকে অবহিত করেন। সতর্কতার অংশ হিসেবে দুধের সেই জমাট বাঁধা অবস্থার ছবি হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়।

খবর পেয়ে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা মনোয়ার হোসেন বিদ্যালয়ে উপস্থিত হন এবং একটি প্যাকেট খুলে নিজে দুধ পান করে দাবি করেন যে দুধে কোনো ধরনের সমস্যা নেই। এরপর শিক্ষকদের আপত্তির মুখেও তিনি উপস্থিত সব শিক্ষার্থীকে সেই দুধ পানের নির্দেশ দেন। দুধ পান করার মাত্র পাঁচ মিনিটের মধ্যেই ক্লাসরুমের ভেতরেই বহু শিশুর শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে।

চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী মনির হোসেন জানায়, প্যাকেট থেকে দুধ পানের পরপরই তার মাথা ঘোরা এবং পেটে তীব্র যন্ত্রণা শুরু হয়। একপর্যায়ে সে সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে থাকার শক্তি হারিয়ে মেঝেতে লুটিয়ে পড়ে। পরবর্তীতে শিক্ষক ও অভিভাবকরা মিলে তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন। ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা তসলিমা খাতুন জানান, দুধের প্যাকেটে ফুটো এবং ভেতরে জমাট চিত্র দেখে তারা শুরুতেই দুধ বিতরণ স্থগিত রাখার পরামর্শ দিয়েছিলেন। তবে সরবরাহকারী কর্মকর্তার অযৌক্তিক আশ্বাসের পরেই শিশুরা তা পান করে এবং একে একে আক্রান্ত হতে শুরু করে।

দেবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. বিমল দেবনাথ জানান, বিদ্যালয়টি থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ১৭ জন শিক্ষার্থী অসুস্থ অবস্থায় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এসেছে। তাদের প্রয়োজনীয় জরুরি চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে এবং বর্তমানে শিশুদের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

ঘটনার খবর পেয়ে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ছুটে যান দেবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইন্দ্রজিৎ সাহা। তিনি জানান, অসুস্থ শিক্ষার্থীদের সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সুচিকিৎসা নিশ্চিত করা হচ্ছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে বিতরণ করা দুধের নমুনা সংগ্রহ করে রাসায়নিক পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হবে এবং তদন্তে কারো গাফিলতি প্রমাণিত হলে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।