অক্টোবর ৪, ২০২৬, ০৫:১৯ পিএম
পঞ্চগড় সদর উপজেলায় রাতের আঁধারে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তালা ভেঙে এগারোটি বৈদ্যুতিক ফ্যান চুরির ঘটনা ঘটেছে। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির একটি সাউন্ড সিস্টেম এবং শিক্ষার্থীদের সততা স্টোরে সংরক্ষিত কিছু নগদ অর্থও নিয়ে গেছে চোরেরা। শনিবার দিবাগত রাতে উপজেলার ধাক্কামারা ইউনিয়নের বুড়িরবান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এই চুরির ঘটনা সংঘটিত হয়। চুরি শেষে ঘটনাস্থলে নিজেদের ব্যবহৃত একটি স্ক্রু ড্রাইভার ফেলে রেখে গেছে দুর্বৃত্তরা।
রোববার দুপুরে বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষটি সম্পূর্ণ এলোমেলো অবস্থায় দেখতে পাওয়া যায়। সিলিং থেকে ফ্যান খোলার সুবিধার্থে চোরেরা কক্ষের টেবিল ব্যবহার করায় কাঠের ওপর জুতার স্পষ্ট ছাপ দৃশ্যমান রয়েছে। তবে আশ্চর্যজনকভাবে বিদ্যালয়ের কাঠের আলমারিতে তালাবদ্ধ থাকা দাপ্তরিক ল্যাপটপ ও প্রজেক্টরের অন্যান্য আধুনিক সরঞ্জামাদি অক্ষত অবস্থায় পাওয়া গেছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এমন দুঃসাহসিক চুরির ঘটনায় স্থানীয় অভিভাবক ও এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, বিদ্যালয়ের মূল কেঁচি গেট অক্ষত রেখেই দোতলার বারান্দার গ্রিল বেয়ে ভেতরে প্রবেশ করে এই অপকর্ম সম্পন্ন করা হয়।
রোববার সকালে পাঠদান কার্যক্রম শুরু করতে বিদ্যালয়ে আসা শিক্ষার্থীরা জানায়, নিজ নিজ শ্রেণিকক্ষে প্রবেশ করে তারা ফ্যানের সুইচ চালু করতে গিয়ে দেখে কোনোটিই ঘুরছে না। ওপরের দিকে তাকিয়ে তারা দেখে পুরো কক্ষের কোনো ফ্যানই আর সিলিংয়ে নেই। তীব্র ভ্যাপসা গরমের মধ্যে ফ্যানবিহীন অবস্থায় ক্লাস করতে গিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয় তাদের।
ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে রমেন চন্দ্র রায় নামে এক অভিভাবক জানান, সকালে নিজের সন্তানকে বিদ্যালয়ে দিতে এসে তিনি ফ্যান চুরির খবর পান। প্রাতিষ্ঠানিক এমন চুরির ঘটনা অত্যন্ত লজ্জাজনক ও বেদনাদায়ক উল্লেখ করে তিনি অবিলম্বে ঘটনার সঙ্গে জড়িত দুর্বৃত্তদের দ্রুত শনাক্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
বুড়িরবান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হারুন অর রশীদ জানান, প্রতিদিনের মতো রোববার সকালে এসে তালা খোলার পরই অফিস কক্ষের সবকিছু বিশৃঙ্খল দেখা যায়। টেবিলে জুতার ছাপ এবং সিলিংয়ে তাকাতেই চারটি ফ্যান উধাও অবস্থায় মেলে। পরবর্তীতে চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির কক্ষে গিয়ে আরও সাতটি ফ্যান খুলে নেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়। রাতের অন্ধকারে অজ্ঞাতপরিচয় চোরেরা বিদ্যালয়ে হানা দিয়ে মোট এগারোটি ফ্যান, সাউন্ড সিস্টেম ও সততা স্টোরের গচ্ছিত নগদ টাকা নিয়ে পালিয়েছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, পাঠদান শেষে শিক্ষকরা চলে যাওয়ার পর স্থানীয় কিছু উচ্ছৃঙ্খল ব্যক্তি ও মাদকসেবী নিয়মিতভাবে সন্ধ্যার পর বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আড্ডা জমায়। স্থানীয়দের মাধ্যমে পাওয়া এই তথ্যের ভিত্তিতে তারাই এমন অপকর্মে জড়িত থাকতে পারে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। ঘটনাটি ইতোমধ্যে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে মৌখিকভাবে জানানো হয়েছে এবং আইনি পদক্ষেপের প্রস্তুতি চলছে।
পঞ্চগড় সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আশীষ কুমার শীল জানান, বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে থানায় এখনো কোনো লিখিত এজাহার জমা দেওয়া হয়নি। আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করা হলে পুলিশ তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন