অক্টোবর ৪, ২০২৬, ০৫:৪৯ পিএম
ভালোবাসা আর সম্মান সম্পূর্ণ এক বিষয় নয়। মানুষ কাউকে ভালোবাসতে পারে, কিন্তু সেই ভালোবাসা সবসময় সম্মানের পর্যায়ে পৌঁছায় না। যেমন, একজন বাবা তার সন্তানকে স্নেহ দিয়ে আগলে রাখেন, কিন্তু সেখানে সন্তানের দিক থেকে সম্মান না-ও থাকতে পারে।
তবে সন্তান যখন বাবার আদেশ মেনে সংযত আচরণ করে, তখন সেখানে ভালোবাসা ও সম্মান দুটোই থাকে। নবীজির (সা.) প্রতি আমাদের ভালোবাসার ক্ষেত্রেও এই সম্মান থাকা অপরিহার্য। তাকে ভালোবাসা যেমন ইমানের দাবি, তেমনি তার মর্যাদা উপলব্ধি করে সম্মান জানানোও ইমানের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কারণ তিনি শুধু প্রিয় মানুষই নন, বরং আল্লাহর রাসুল হিসেবে পবিত্র বাণী ও হেদায়াতের পথ নিয়ে এসেছেন।
এই সম্মান প্রকাশের প্রধান শর্ত হলো তার আনুগত্য করা। সুরা আহযাবের ৩৬ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেছেন, আল্লাহ ও তার রাসুল কোনো ফয়সালা দিলে মুমিনদের জন্য ভিন্ন সিদ্ধান্তের ইখতিয়ার সংগত নয়। আর যে অমান্য করল, সে স্পষ্টভাবে পথভ্রষ্ট হলো। অর্থাৎ নবীজির আদেশ-নিষেধের ওপর কারও ব্যক্তিগত পছন্দকে প্রাধান্য দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।
সুরা হুজুরাতের প্রথম আয়াতে বলা হয়েছে, মুমিনরা যেন আল্লাহ ও তার রাসুলের সামনে আগ বাড়িয়ে কোনো কিছু না করে। কোরবানির দিন কিছু সাহাবি নবীজির আগেই নিজেদের পশু জবাই করে ফেলেছিলেন, অথবা যুদ্ধ সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে আগ বাড়িয়ে কিছু করেছিলেন—এমন প্রেক্ষাপটেই আয়াতটি নাজিল হয়। এর স্পষ্ট শিক্ষা হলো, ইবাদত, হালাল-হারাম ও দীনের বিধানে তার নির্দেশের ওপর অন্য কিছুকে অগ্রাধিকার দেওয়া যাবে না।
তবে দুনিয়ার স্বাভাবিক ও কারিগরি বিষয় এর বাইরে। সহিহ মুসলিমের ২৩৬৩ নম্বর হাদিসে নবীজি বলেছেন, ‘তোমরা দুনিয়ার ব্যাপারে আমার চেয়ে ভালো জানো।’ ফলে কৃষি বা পার্থিব অভিজ্ঞতায় নিজস্ব জ্ঞান ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে। দ্বীনের বিধান আর দুনিয়ার অভিজ্ঞতাকে এক করা যাবে না।
নবীজির নাম বলতে গিয়ে কেবল ‘মুহাম্মদ’ বলা যাবে না। সুরা নুরের ৬৩ নম্বর আয়াতের নির্দেশ অনুযায়ী, মানুষ সাধারণত একে অপরকে যেভাবে ডাকে, নবীজিকে সেভাবে ডাকা যাবে না। তার নামের সঙ্গে দরুদ পড়তে হবে এবং মর্যাদার প্রতি লক্ষ্য রেখে সম্মানজনকভাবে সম্বোধন করতে হবে। বাংলায় সম্মানের জন্য আমরা তার নামের আগে ‘হজরত’ শব্দটি ব্যবহার করতে পারি।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন