অক্টোবর ৪, ২০২৬, ০৫:৩৩ পিএম
বিমানবন্দরে বিশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে হেনস্তার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের জামিন শুনানিকে কেন্দ্র করে এজলাসকক্ষে ও আদালত চত্বরে আইনজীবীদের মধ্যে তীব্র হট্টগোল ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। রোববার (৪ অক্টোবর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জামসেদ আলমের আদালতে শুনানি চলাকালে বিএনপি ও জামায়াতপন্থী আইনজীবীদের মধ্যে এই উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত আসামির জামিন আবেদন নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আনুষ্ঠানিক আদেশ দেন।
জামিন শুনানি ও কারাগারে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলাকালে আদালত প্রাঙ্গণে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। রোববার দুপুর আড়াইটার দিকে কড়া পুলিশি পাহারায় আখতারুজ্জামানকে এজলাসে হাজির করা হয়। দুপুর ২টা ৪০ মিনিটের দিকে মামলার কার্যক্রম শুরু হতেই এজলাসের ভেতর বিএনপি ও জামায়াত সমর্থক আইনজীবীদের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় শুরু হয় এবং তা একপর্যায়ে সরাসরি ধাক্কাধাক্কিতে রূপ নেয়। এজলাসের ভেতরে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে বিচারক সাময়িকভাবে এজলাস কক্ষ ত্যাগ করে নেমে যান। কয়েক মিনিট ধরে এই বিশৃঙ্খলা চলতে থাকে।
পরবর্তীতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ও মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী এবং আসামিপক্ষের আইনজীবী আব্দুর রাজ্জাক উভয় পক্ষের আইনজীবীদের শান্ত থাকার অনুরোধ জানিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। দুপুর ২টা ৪৫ মিনিটে বিচারক পুনরায় এজলাসে আসন গ্রহণ করার পর আসামি আখতারুজ্জামান বিচারকের উদ্দেশ্যে বলেন, দশজন আইনজীবী তার পক্ষে শুনানিতে অংশ নেবেন এবং তিনি এর অনুমতি প্রার্থনা করেন।
এজলাসকক্ষের এই হাতাহাতির রেশ দ্রুত আদালতের নিচতলা ও বাইরের রাস্তায় ছড়িয়ে পড়ে। শুনানি শেষ হওয়ার পর ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবনের সামনের প্রধান সড়কে দুই পক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে ব্যাপক ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়। কয়েক মিনিট ধরে চলা এই হট্টগোলের পর উপস্থিত অতিরিক্ত পুলিশ সদস্যরা তৎপর হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
এর আগে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের এক কর্মকর্তাকে হুমকি দেওয়ার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় গত শুক্রবার (২ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট এলাকার ডিওএইচএস বাসভবন থেকে আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখা।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, গত ১ অক্টোবর বিমানবন্দরে যাত্রীদের লাগেজ পেতে অনাকাঙ্ক্ষিত বিলম্ব, লাগেজ ট্রলির সাময়িক সংকট এবং জমজমের পানি না পাওয়াকে কেন্দ্র করে টার্মিনালে তীব্র উত্তেজনা তৈরি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে গিয়ে হুমকি-ধমকির পর্যায়ে পৌঁছালে বিমানবন্দরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, সরকারি কাজে বাধা প্রদান এবং দায়িত্বরত নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে শারীরিকভাবে হেনস্তার অভিযোগে বিমানবন্দর থানায় একটি নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন