সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬, ০৪:১২ পিএম
পঞ্চগড়ে মাতৃসেবা ফার্মেসির বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও ভিত্তিহীন অপপ্রচার চালানোর অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী। একই সাথে আট মাসের এক অন্তঃসত্ত্বা নারীর গর্ভের সন্তান মৃত্যুর অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার সাথে ফার্মেসি কিংবা তাদের দেওয়া কোনো ওষুধের দূরতম সম্পর্ক নেই বলে দাবি করা হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে পঞ্চগড় সরকারি অডিটোরিয়াম সংলগ্ন জেলা প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এসব দাবি তুলে ধরা হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন পল্লী চিকিৎসক মোছা. রোকসানা আক্তার।
লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, পঞ্চগড়ের জগদল বাজারে গর্ভবতী নারীদের সেবা দেওয়ার মতো কোনো নারী পল্লী চিকিৎসক না থাকার কারণে তিনি দীর্ঘদিন ধরে সেখানে সেবামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন। প্রত্যন্ত অঞ্চলের গর্ভবতী নারীদের প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা, শারীরিক ওজন ও রক্তচাপ পরিমাপসহ নানা ধরনের প্রাথমিক পরামর্শ তিনি সম্পূর্ণ বিনামূল্যে প্রদান করে আসছিলেন। নারী হওয়ার সুবাদে স্থানীয় গ্রামের বহু নারী নির্দ্বিধায় তার কাছে শারীরিক বিভিন্ন সমস্যার কথা খুলে বলতে পারতেন।
সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করে দাবি করা হয়, গত ২৭ আগস্ট থেকে কয়েকজন স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী ফার্মেসির কাছে চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। চাঁদার অর্থ দিতে অস্বীকৃতি জানানোর পর থেকেই মাতৃসেবা ফার্মেসি এবং এর সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত খবর প্রকাশ করা শুরু হয়। এই ধরনের অসত্য প্রচারণার ফলে প্রতিষ্ঠানটির দীর্ঘদিনের সামাজিক সুনাম ক্ষুণ্ন হয়েছে এবং এলাকার সাধারণ মানুষের মাঝে চরম আতঙ্ক ও ভ্রান্ত ধারণার জন্ম দিয়েছে।
গর্ভস্থ শিশুর মৃত্যুর প্রসঙ্গে সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, এই মৃত্যুর ঘটনার সাথে ফার্মেসি থেকে সরবরাহ করা ওষুধের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। ঘটনার সত্যতা প্রমাণে শারমিন আক্তার ও সামী মিজানুর রহমানের স্বাক্ষরযুক্ত একটি লিখিত প্রত্যয়নপত্র উপস্থাপন করা হয়, যেখানে শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় ফার্মেসির কোনো দায় বা অবহেলা ছিল না বলে উল্লেখ রয়েছে। ওই লিখিত দলিলের মূল কপি উপস্থিত সাংবাদিকদের সামনে প্রদর্শন করা হয় এবং ফটোকপি বিতরণ করা হয়।
লিখিত বক্তব্যে আরও উল্লেখ করা হয়, গত ১ সেপ্টেম্বর জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর মাতৃসেবা ফার্মেসিতে একটি নিয়মিত তদারকি অভিযান পরিচালনা করে। ওই অভিযানের সময় একটি অ্যান্টিবায়োটিক সংক্রান্ত অসতর্কতা বা কারিগরি ত্রুটির কারণে ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ৫২ ধারা অনুযায়ী ফার্মেসিকে আর্থিক জরিমানা করা হয়। প্রতিষ্ঠানটি আইনের প্রতি সম্পূর্ণ শ্রদ্ধাশীল থেকে তাৎক্ষণিকভাবে আরোপিত জরিমানার অর্থ পরিশোধ করে।
ফার্মেসির মালিক রোকসানা আক্তার ক্ষোভ প্রকাশ করে অভিযোগ করেন, কয়েকটি গণমাধ্যমে এই জরিমানার ঘটনাটিকে ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। সেখানে ভ্রান্ত ওষুধ প্রয়োগ বা প্রেসক্রিপশনের কারণে শিশুর মৃত্যু হয়েছে দাবি করে ভ্রাম্যমাণ আদালত জরিমানা করেছে বলে খবর প্রচার করা হয়। তিনি তথ্যের এমন বিকৃতি ও বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রচারের তীব্র প্রতিবাদ জানান।
অনাকাঙ্ক্ষিত এসব প্রচারণার কারণে ফার্মেসিটিতে নিয়মিত আসা রোগী ও সাধারণ ক্রেতারা মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। এতে প্রতিষ্ঠানটি যেমন আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে, তেমনি সামাজিকভাবেও মর্যাদাহানির শিকার হচ্ছে। সংবাদ সম্মেলনে পল্লী চিকিৎসক রোকসানা আক্তার জানান, তার প্রতিষ্ঠান সবসময় আসল ও মানসম্পন্ন ওষুধ সরবরাহে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং পূর্বের অসতর্কতার জন্য তারা অনুতপ্ত হয়ে ভবিষ্যতে আরও সতর্কতার সাথে স্বাস্থ্যসেবা পরিচালনার অঙ্গীকার করছেন। একই সাথে তিনি যেকোনো খবর প্রকাশের আগে গণমাধ্যমকর্মীদের বস্তুনিষ্ঠ তথ্য যাচাইয়ের আহ্বান জানান।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন পঞ্চগড় জেলা প্রেস ক্লাবের সহসভাপতি আব্দুর রহিম ও এনামুল হক, সাধারণ সম্পাদক ডিজার হোসেন বাদশা, সাংগঠনিক সম্পাদক রাসেদুল ইসলাম, কোষাধ্যক্ষ সাদেকুজ্জামানসহ প্রেস ক্লাবের অন্যান্য সম্পাদক ও সদস্য ফারুক, মিম, ময়নুল, কাফী ও রাকিব হাসান। এছাড়া বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন