সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬, ০২:৫২ পিএম
পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায় অবস্থিত ফুলতলা পানিডুবি দারুচ্ছুন্নাহ দাখিল মাদরাসার জমি ও দোকান জোরপূর্বক দখলের অভিযোগ উঠেছে এক স্থানীয় রাজনৈতিক নেতার বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত ময়জউদ্দিন ওই এলাকার ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এই ঘটনার প্রতিবাদে এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির স্থাবর সম্পত্তি সুরক্ষার দাবিতে আজ সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাস্তায় নেমে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন মাদরাসাটির সাধারণ শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকেরা।
মাদরাসা কর্তৃপক্ষের দাবি অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠার পর থেকে গত প্রায় ৪৩ বছর ধরে জমিটি তাদের সরাসরি ভোগদখলে রয়েছে। নিয়মিতভাবে জমির যাবতীয় সরকারি খাজনাও পরিশোধ করে আসছে কর্তৃপক্ষ। মাদরাসা পরিচালনা পর্ষদ জানিয়েছে, ১৯৮৩ সালে ময়জউদ্দিনের পিতা মহিরউদ্দিন এই সম্পত্তিটি মাদরাসার অনুকূলে আনুষ্ঠানিকভাবে দান করেছিলেন। তবে দীর্ঘ চার দশক পর হঠাৎ করে গত শনিবার সেই সম্পত্তিতে ট্রাকভর্তি বালু ফেলতে শুরু করেন অভিযুক্ত ব্যক্তি। এর ফলে মাদরাসা চত্বরে থাকা প্রতিষ্ঠানটির প্রায় ১০টি বাণিজ্যিক দোকান বন্ধ হয়ে যায়।

এই পরিস্থিতিতে শিক্ষাঙ্গনের স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনা ও জমি রক্ষার দাবিতে সংশ্লিষ্টরা রাজপথে মানববন্ধনে নামেন। দীর্ঘদিন ধরে জমিটি মাদরাসার নিরবচ্ছিন্ন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানান মাদরাসার ভারপ্রাপ্ত সুপার লাভলী বেগম। তিনি অভিযোগ করেন, নিয়মিত খাজনা পরিশোধ সত্ত্বেও গত শনিবার অভিযুক্ত ব্যক্তি দলবল নিয়ে বালু ফেলে জমিটি দখলের চেষ্টা করেন। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের সামনে নির্মিত দোকানগুলোতে বহিরাগতদের মাধ্যমে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি অবিলম্বে মাদরাসার সম্পত্তি পুনরুদ্ধার এবং অবৈধ দখলচেষ্টা বন্ধে স্থানীয় প্রশাসনের কঠোর ও সরাসরি হস্তক্ষেপ দাবি করেন।
মাদরাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি ফরহাদ হোসেন উল্লেখ করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সম্পদ বেআইনিভাবে দখলের প্রতিবাদ জানাতেই তারা শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নিয়ে সমবেত হয়েছেন। তিনি জানান, সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের দলীয় সভাপতি ময়জউদ্দিন ও তার ছেলেসহ বেশ কয়েকজন মিলে দোকানগুলো জবরদখল করে বালু ফেলে অবরুদ্ধ করেছেন। তালাবদ্ধ দোকানগুলো অবিলম্বে খুলে দেওয়ার পাশাপাশি মাদরাসায় শিক্ষার অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করতে তিনি আইন প্রয়োগকারী সংস্থার জরুরি সহায়তা চেয়েছেন।
জমি দখলের অভিযোগ সরাসরি স্বীকার করে স্থানীয় ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি ময়জউদ্দিন জানান, দলীয় কোনো রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। তিনি দাবি করেন, ওই সম্পত্তিটি দীর্ঘদিন ধরেই তাদের নিজস্ব এবং এ নিয়ে তারা বিভিন্ন মহলে অভিযোগও জানিয়ে আসছিলেন। সেই ধারাবাহিকতায় গত শনিবার তারা জমিটি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছেন। ঘটনার সত্যতা খতিয়ে দেখতে আইনি প্রক্রিয়া শুরু করেছে স্থানীয় প্রশাসন।
বোদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম জানিয়েছেন, মাদরাসা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে একটি আনুষ্ঠানিক লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি সরেজমিনে তদন্ত করে দ্রুত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পরই উদ্ভূত ঘটনার প্রকৃত কারণ ও আইনি অবস্থা পরিষ্কার হবে বলে জানান এই কর্মকর্তা।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন