মার্চ ৬, ২০২৬, ০৫:৪২ পিএম
পঞ্চগড় সদর উপজেলায় এক কলেজ অধ্যক্ষের বাড়িতে সংঘটিত দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ডাকাত দলের মূল পরিকল্পনাকারীসহ মোট ৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শুক্রবার বিকেলে জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার রবিউল ইসলাম সাংবাদিকদের এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত ২৭ ফেব্রুয়ারি রাতে সদর উপজেলার হাফিজাবাদ ইউনিয়নের যুগিভিটা এলাকায় কলেজ অধ্যক্ষ মো. নুরুল্লাহর বাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটে।
ওই রাতে ডাকাত সদস্যরা দেশীয় অস্ত্রের মুখে পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করে। তারা ঘরের ওয়ার্ডরোব, স্যুটকেস ও ড্রেসিং টেবিল তছনছ করে প্রায় ৮ ভরি স্বর্ণালঙ্কার, নগদ টাকা এবং একটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন লুটে নিয়ে যায়। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী অধ্যক্ষ বাদী হয়ে পঞ্চগড় সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
মামলা দায়েরের পর তদন্তে নামে জেলা ডিবি পুলিশ। তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় গত মঙ্গলবার জেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে মজিবর রহমান, রমজান আলী, সাদ্দাম হোসেন, আশিক ও জুবায়ের নামে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তীতে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার রাতে ডাকাতির মূল পরিকল্পনাকারী ও প্রতিবেশী মো. আলমকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ জানায়, আলমকে আদালতে হাজির করা হলে তিনি স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভাবের তাড়নায় তারা এই ডাকাতি সংঘটন করেছে বলে জানা গেছে।
পুলিশ সুপার রবিউল ইসলাম বলেন, এই চক্রের আরও দুই সদস্য কামরুল ও মানিক বর্তমানে পলাতক রয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে। একই সঙ্গে লুণ্ঠিত অবশিষ্ট মালামাল উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) শইমী ইমতিয়াজ, জেলা গোয়েন্দা শাখার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এনায়েত কবির এবং সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আশরাফুল ইসলাম।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন