রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

বাংলাবান্ধায় ভুটানের চালককে মারধর: আমদানি-রপ্তানি ব্যাহত

আবু সালেহ মোঃ রায়হান

সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬, ০৭:৩৬ পিএম

বাংলাবান্ধায় ভুটানের চালককে মারধর: আমদানি-রপ্তানি ব্যাহত

ছবি: দিনাজপুর টিভি

পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলার বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরে গাড়ি আগে-পিছে নেওয়াকে কেন্দ্র করে ভুটানের এক পণ্যবাহী ট্রাকচালককে মারধরের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক নিরাপত্তাকর্মীর বিরুদ্ধে। রবিবার দুপুরে সংঘটিত এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জেরে বন্দরটিতে প্রায় এক ঘণ্টা সব ধরনের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ থাকে। ঘটনার সূচনা হয় পণ্যবাহী ট্রাক প্রবেশের মুখে সামান্য তর্কবিতর্ক থেকে।

স্থলবন্দর সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, রবিবার দুপুর একটার দিকে বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরের ভেতরে প্রবেশের মুখে গাড়ি সামনে ও পেছনে সরানোকে কেন্দ্র করে বাগ্‌বিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে বাংলাবান্ধা ল্যান্ডপোর্ট লিমিটেডের নিরাপত্তাকর্মী মো. জীবন ইসলাম ক্ষিপ্ত হয়ে ভুটানের পণ্যবাহী ট্রাকের চালক প্রতীক রায়কে শারীরিকভাবে মারধর করেন। আহত চালক প্রতীক রায়ের বাড়ি ভারতের পশ্চিমবঙ্গের আলিপুরদুয়ার জেলার জয়গাঁ থানার দলসিংপাড়া এলাকায়। 

তিনি ওই এলাকার উত্তম রায়ের ছেলে এবং ভুটান থেকে পাথর ও পণ্যবাহী যান নিয়ে নিয়মিত বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরে যাতায়াত করেন। সহকর্মীকে মারধরের খবর ছড়িয়ে পড়লে বন্দরে অবস্থানরত অন্যান্য ভুটানি চালকদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে। ভুক্তভোগী চালকসহ ভুটানের প্রায় ২০ থেকে ২৫ জন ট্রাকচালক ক্ষুব্ধ হয়ে তাৎক্ষণিকভাবে শূন্যরেখায় থাকা বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের চেকপোস্টে গিয়ে উপস্থিত হন। তারা ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জানানোর দাবি তুলে উত্তেজিত হয়ে পড়েন। 

ওই সময় সীমান্তে দায়িত্বরত বিজিবির বাংলাবান্ধা চেকপোস্ট কমান্ডার নায়েব সুবেদার মিরাজুল ইসলাম পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে আন্দোলনরত বিদেশি চালকদের শান্ত করেন এবং বন্দর কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে প্রতিকার নিশ্চিতের আশ্বাস দিয়ে তাদের পুনরায় স্থলবন্দর এলাকায় পাঠিয়ে দেন। পাশাপাশি তিনি তাৎক্ষণিকভাবে বাংলাবান্ধা ল্যান্ডপোর্ট লিমিটেডের ব্যবস্থাপককে বিষয়টি অবগত করে জরুরি ভিত্তিতে সমাধানের উদ্যোগ নিতে বলেন।  উত্তেজনার খবর পাওয়া মাত্রই তেঁতুলিয়া মডেল থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়।

তেঁতুলিয়া মডেল থানার উপপরিদর্শক নরেশ চন্দ্র দাসের নেতৃত্বে পুলিশের দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরবর্তীতে বন্দর কর্তৃপক্ষের মধ্যস্থতায় অনুষ্ঠিত সমঝোতা বৈঠকে অভিযুক্ত নিরাপত্তাকর্মী নিজের ভুল স্বীকার করে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করেন। উপস্থিত প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও নেতৃবৃন্দ উভয় পক্ষের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝির অবসান ঘটিয়ে তাদের হাত মিলিয়ে ও কোলাকুলি করিয়ে দেন। তবে পুরো ঘটনার বিষয়ে অভিযুক্ত নিরাপত্তাকর্মীর ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বরে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। ঘটনার পর প্রায় এক ঘণ্টার মতো আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম স্থগিত থাকলেও পরে তা পুনরায় পুরোদমে চালু হয়।

বাংলাবান্ধা ল্যান্ডপোর্টের ব্যবস্থাপক আবুল কালাম আজাদ জানান, গাড়ি পার্কিং ও সরানো নিয়ে উত্তেজনার একপর্যায়ে হাতাহাতিতে দুজনই সামান্য আহত হন। পরে উভয় পক্ষকে ডেকে বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে মীমাংসা করে দেওয়া হয়। বর্তমানে বন্দরের অভ্যন্তরীণ লোড-আনলোড এবং আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে। তেঁতুলিয়া মডেল থানার উপপরিদর্শক নরেশ চন্দ্র দাস উল্লেখ করেন, ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি শান্ত করার পর নিরাপত্তাকর্মী ক্ষমা চাইলে দুই পক্ষের সাথে কথা বলে বিষয়টি সৌহার্দ্যপূর্ণভাবে নিষ্পত্তি করা হয় এবং পরিবেশ এখন পুরোপুরি শান্তিপূর্ণ।

পঞ্চগড় ১৮ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ কায়েস জানান, ভুটানের ট্রাকচালক ও বন্দরের নিরাপত্তাকর্মীর মধ্যকার অপ্রীতিকর ঘটনার পর বিদেশি চালকরা সীমান্তে বিজিবিকে অবহিত করেছিলেন। বিজিবি সদস্যরা তাদের বুঝিয়ে স্থলবন্দরে ফেরত পাঠান এবং বন্দর ব্যবস্থাপককে বিষয়টি দ্রুত নিষ্পত্তির অনুরোধ করেন, যার প্রেক্ষিতে কার্যকর সমাধান নিশ্চিত হয়েছে।