রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

৪ বছর পরও চালু হয়নি রানীরবন্দর মা ও শিশুকল্যাণ কেন্দ্র

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

নভেম্বর ২৫, ২০২৫, ০৭:১৮ পিএম

৪ বছর পরও চালু হয়নি রানীরবন্দর মা ও শিশুকল্যাণ কেন্দ্র

ছবি-দিনাজপুর টিভি

দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলার নশরতপুর ইউনিয়নের রানীরবন্দর ১০ শয্যাবিশিষ্ট মা ও শিশুকল্যাণ কেন্দ্রটি উদ্বোধনের পর কেটে গেল প্রায় চার বছর। পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর প্রয়োজনীয় জনবল বরাদ্দ না দেওয়ায় কেন্দ্রটি আজও পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হয়নি।

ফলে স্থানীয় তিনটি ইউনিয়নের হাজারো বাসিন্দা চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের বাস্তবায়ন ও পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের অর্থায়নে কোটি টাকা ব্যয়ে কেন্দ্রটি নির্মাণ করা হয়।

২০২২ সালের জুন মাসে তৎকালীন সংসদ সদস্য আবুল হাসান মাহমুদ আলী কেন্দ্রটি উদ্বোধন করেন।আধুনিক অবকাঠামো, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও চিকিৎসকদের থাকার জন্য আবাসিক ভবন থাকা সত্ত্বেও কেন্দ্রটি বন্ধ।

ব্যবহারের অভাবে যন্ত্রপাতিগুলো নষ্ট হতে বসেছে। এ ছাড়া এক বছরের বেশি সময় ধরে বিদ্যুৎ বিল বকেয়া থাকায় যেকোনো মুহূর্তে সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।নশরতপুর গ্রামের বাসিন্দা রশিদুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘মানুষের সেবা দেওয়ার জন্য সরকার কোটি টাকা খরচ করে হাসপাতালটি নির্মাণ করল, অথচ ডাক্তার-নার্স নিয়োগ দেওয়া হয়নি।

হাসপাতালটিতে ডাক্তার থাকলে আশপাশের হাজারো মানুষের অনেক উপকার হতো। আমরা স্থানীয়রা চাই দ্রুত প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ দিয়ে মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা হোক।’স্থানীয় ইউপি সদস্য মশিউর রহমান জানান, রানীরবন্দর কেন্দ্রটি চালু হলে আশপাশের তিনটি ইউনিয়ন—নশরতপুর, তেঁতুলিয়া ও আলোকডিহির—হাজারো মানুষ উপকৃত হতেন। তিনি দুঃখপ্রকাশ করে বলেন, ‘হাসপাতালে আধুনিক ভবনসহ সবই রয়েছে, কিন্তু অজানা কারণে এখানে ১৬ জনের একজনও লোকবল নিয়োগ দেওয়া হয়নি।

কেন্দ্রে চিকিৎসক না থাকায় বাধ্য হয়ে গর্ভবতী মা ও শিশুদের চিকিৎসার জন্য বেসরকারি ক্লিনিক বা প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যেতে হয়।’তবে ইউপি সদস্য আরও জানান, ইউনিয়ন পরিষদ ও উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের সহযোগিতায় বর্তমানে সপ্তাহে দুই দিন একজন উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার রাখা হয়েছে, যিনি জ্বর-সর্দিসহ বিভিন্ন রোগের ওষুধ প্রদান করেন।

এদিকে, কেন্দ্রের আউটসোর্সিংয়ে নিয়োগপ্রাপ্ত পরিচ্ছন্নতাকর্মী বেলাল হোসেন জানান, হাসপাতালটি উদ্বোধনের পর থেকে তিনি কাজ করে আসছেন, কিন্তু হঠাৎ করে ১৬ মাস ধরে বেতন পাচ্ছেন না। তিনি হতাশা প্রকাশ করে বলেন, বেতন-ভাতা না পাওয়ায় তিনি বর্তমানে সপ্তাহে মাত্র একদিন পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা করে চলে আসেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আরমান জনি বলেন, ‘১৬ জনের বিপরীতে কোনো জনবল বরাদ্দ দেওয়া হয়নি।’ তবে তিনি জানান, তারা ইউনিয়ন পরিষদ ও উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে একজন উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার পদায়ন করেছেন, যিনি সপ্তাহে দুই দিন সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা ও প্রয়োজনীয় ওষুধ দিয়ে থাকেন।