ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০২৬, ১১:৫৮ এএম
দিনাজপুরের হিলিতে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে শারীরিক লাঞ্ছনা ও হেনস্তার শিকার হয়েছেন বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ‘একাত্তর টিভি’-র হাকিমপুর উপজেলা প্রতিনিধি ছামিউল ইসলাম আরিফ। গতকাল মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার পাইকপাড়া-কাঁকড়াপালি এলাকায় এ অনভিপ্রেত ঘটনা ঘটে।
এই ঘটনার পর স্থানীয় সাংবাদিকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় বইছে।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হিলির পাইকপাড়া থেকে কাঁকড়াপালি পর্যন্ত এক কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কের সংস্কার ও কার্পেটিংয়ের কাজ চলছিল।
সরকারি এই প্রকল্পের কাজের গুণগত মান যাচাই এবং প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহের উদ্দেশ্যে সাংবাদিক ছামিউল ইসলাম আরিফ সেখানে যান। এ সময় নির্মাণকাজে নিয়োজিত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘মেসার্স আলম ইন্ডাস্ট্রিজ’-এর ম্যানেজার আলম হোসেন তার ওপর ক্ষিপ্ত হন এবং বিনা উসকানিতে তাকে অপদস্থ করতে শুরু করেন।
ভুক্তভোগী সাংবাদিক আরিফ জানান, তিনি উন্নয়ন কাজের মান সম্পর্কে জানতে চাইলে ম্যানেজার আলম হোসেন উত্তেজিত হয়ে তাকে গালিগালাজ করেন। একপর্যায়ে তিনি সাংবাদিকের পেশাগত কাজে ব্যবহৃত ক্যামেরাটি কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন এবং তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন। আলম হোসেনের এমন রুক্ষ আচরণে সেখানে উপস্থিত সাধারণ মানুষের মধ্যেও বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। একজন সংবাদকর্মীর ওপর এমন আচরণের ফলে প্রকল্পের কাজের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে হাকিমপুর উপজেলা প্রকৌশল কার্যালয়ের সার্ভেয়ার কামরুল ইসলাম বলেন, "সরকারি উন্নয়ন কাজের তথ্য সংগ্রহ করা যে কোনো নাগরিক ও সংবাদকর্মীর অধিকার। তথ্য সংগ্রহে বাধা প্রদান এবং সংবাদকর্মীর ওপর চড়াও হওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক ও অনভিপ্রেত। ঘটনাটি আমরা ইতোমধ্যে অবগত হয়েছি এবং বিভাগীয় তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
দিনের আলোতে একজন সংবাদকর্মীর ওপর এমন বর্বরোচিত হামলার ঘটনায় হিলির স্থানীয় সাংবাদিকদের মধ্যে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে। হিলির সাংবাদিক নেতারা এক বিবৃতিতে অবিলম্বে অভিযুক্ত ম্যানেজার আলম হোসেনকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। অন্যথায় তারা বৃহত্তর কর্মসূচির ডাক দেবেন বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন