সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

নদী ও জলাশয় দখলমুক্ত করতে ১৫ দিনের কর্মসূচি

মো: মামুনুর রশিদ

ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২৬, ০৬:৪২ পিএম

নদী ও জলাশয় দখলমুক্ত করতে ১৫ দিনের কর্মসূচি

খাল পরিদর্শন করছেন প্রতিমন্ত্রী :ছবি-দিনাজপুর টিভি

দেশের যেসব নদী খনন প্রয়োজন এবং যেসব জলাশয় অবৈধ দখলে রয়েছে, সেগুলো দ্রুত উদ্ধার ও খনন করার ঘোষণা দিয়েছেন পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার বলরামপুর সাহাপাড়া খাল পরিদর্শনকালে তিনি এই তথ্য জানান।

 প্রতিমন্ত্রী বলেন, সাধারণ মানুষ, স্থানীয় প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট কয়েকটি মন্ত্রণালয়কে সঙ্গে নিয়ে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে দেশজুড়ে ব্যাপক পরিসরে খাল খনন কর্মসূচি শুরু করা হবে। পরিকল্পিতভাবে এই কর্মসূচি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ইতিমধ্যে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।

পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ১৯৭৭ সাল থেকে ১৯৮১ সাল পর্যন্ত সারাদেশে প্রায় দুই হাজার মাইলেরও বেশি খাল খনন করেছিলেন। 

সেই সময় দেশের মানুষ এই উদ্যোগের ফলে কৃষি ও জীবনযাত্রায় ব্যাপক সুফল পেয়েছিল। সেই সফল অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে বর্তমান সরকারও অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে নতুন করে খাল খনন ও পানি ব্যবস্থাপনার কার্যক্রম হাতে নিয়েছে। প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিশেষ নির্দেশনায় দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই কর্মসূচি বাস্তবায়নের কাজ শুরু হতে যাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, শুধু খাল খনন নয়, নদী দখলমুক্ত করা এবং ফারাক্কা ও তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়েও সরকার বিভিন্ন কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। আন্তঃসীমান্ত নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরীণ জলাশয়গুলোর নাব্যতা ফিরিয়ে আনাই এই সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। খাল ও নদী দখলদারদের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, জনস্বার্থে কোনো প্রকার আপস করা হবে না। জলাশয়গুলো দখলমুক্ত করে সাধারণ মানুষের ব্যবহারের উপযোগী করে তোলা হবে।

পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে আরও উপস্থিত ছিলেন দিনাজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মনজুরুল ইসলাম মঞ্জু, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী ফারুক আহমেদ এবং অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নূরে আলম। এছাড়াও স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ সেখানে উপস্থিত ছিলেন। প্রতিনিধি দল বলরামপুর সাহাপাড়া খালের বর্তমান অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন এবং স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে তাদের সমস্যার কথা শোনেন।