রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

ফুলবাড়ীতে সেচ সংকট ৬ গ্রামের কৃষকের স্মারকলিপি প্রদান

নিজস্ব প্রতিবেদক

ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২৬, ০৭:৫০ পিএম

ফুলবাড়ীতে সেচ সংকট ৬ গ্রামের কৃষকের স্মারকলিপি প্রদান

পানির দাবিতে কৃষকদের মানববন্ধন :ছবি-দিনাজপুর টিভি

দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে গভীর নলকূপের মালিকানা ও অপারেটর নিয়োগ সংক্রান্ত দ্বন্দ্বে বোরো চাষাবাদে চরম অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন প্রকল্পের (বিএমডিএ) আওতাধীন ছয়টি গভীর নলকূপ বন্ধ থাকায় সেচের অভাবে শত শত একর জমির বোরো ধান ফেটে চৌচির হয়ে যাচ্ছে। পানির দাবিতে বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন করেছেন উপজেলার শিবনগর ইউনিয়নের শিবনগর। 

পলিশিবনগর, মধ্যমপাড়া ও মহেষপুরসহ ছয়টি গ্রামের ভুক্তভোগী কৃষকেরা। মানববন্ধন শেষে তারা উপজেলা সেচ কমিটির সভাপতি ও নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে একটি স্মারকলিপি প্রদান করেন।

কৃষকদের ভাষ্য অনুযায়ী, বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ওই এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় জমিদাতাদের মধ্য থেকে নিয়োগপ্রাপ্ত অপারেটররা সেচ কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিলেন। তবে ২০২৫ সালে অজ্ঞাত কারণে পুরনোদের বাদ দিয়ে নতুন অপারেটর নিয়োগ দেয় কর্তৃপক্ষ। 

এরপর থেকেই পুরনো ও নতুন অপারেটরদের মধ্যে মালিকানা ও দায়িত্ব নিয়ে বিরোধ চরম আকার ধারণ করে। একপর্যায়ে নলকূপগুলোতে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। বর্তমানে পুরোপুরি সেচ কাজ বন্ধ থাকায় বোরো মৌসুমে বড় ধরনের ফসলহানির আশঙ্কা করছেন কৃষকেরা। দ্রুত সমাধান না হলে মাঠের ফসল রক্ষা করা অসম্ভব হয়ে পড়বে বলে তারা দাবি করেন।পুরনো অপারেটরদের মধ্যে মহেষপুর গ্রামের মো. খন্দকার আব্দুল মমিন সোনা অভিযোগ করেন, তিনি গত ১০ বছর ধরে অপারেটর হিসেবে সফলভাবে দায়িত্ব পালন করেছেন। 

২০২৫ সালে নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নিতে যাওয়ার পথে তিনি সন্ত্রাসী হামলার শিকার হন এবং পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি। এ বিষয়ে তিনি সেচ কমিটির তৎকালীন সভাপতির কাছে আবেদন করেও কোনো প্রতিকার পাননি। তার অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবে পুরনোদের সরিয়ে নতুনদের সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত অপারেটর মেহেদী হাসান দাবি করেন, তারা সরকারি সকল নিয়ম মেনেই নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন এবং যথাযথ প্রক্রিয়ায় দায়িত্ব পেয়েছেন।

বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের ফুলবাড়ী কার্যালয়ের উপসহকারী প্রকৌশলী শামিম হোসেন জানান, নিয়োগ পরীক্ষায় অনুপস্থিত থাকার কারণে পুরনো অপারেটরদের চুক্তি বাতিল করা হয়েছে এবং বিধি মোতাবেক নতুনদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তবে সাবেক অপারেটরদের দাবি, নলকূপগুলো তাদের ব্যক্তিগত জমিতে স্থাপন করা হয়েছে এবং আওতাধীন জমির বড় অংশই তাদের মালিকানাধীন। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সেচ কমিটির সভাপতি আহম্মেদ হাসান জানান, বিষয়টি অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও গুরুত্বপূর্ণ। কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।