নভেম্বর ২, ২০২৫, ০৭:৫২ পিএম
দিনাজপুরের বিরলে অবহেলিত ও শিক্ষায় পিছিয়ে থাকা ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর শিশুদের মাঝে বিনা মূল্যে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিয়ে এলাকায় ব্যাপক সাড়া ফেলেছেন এক মানবিক দম্পতি। লেখাপড়ার পাশাপাশি তাদের পাঠশালায় শিশুদের শেখানো হচ্ছে সামাজিক মূল্যবোধ ও নৈতিকতা। এ ছাড়া শিশুদের সুরক্ষায় বাল্যবিবাহ রোধে অভিভাবকদের সচেতন করে তুলছেন তারা, যা এলাকায় বাল্যবিবাহের সংখ্যা কমাতে সহায়তা করেছে।মানবিক দম্পতির বাড়ি দিনাজপুর জেলার বিরল উপজেলার ধর্মপুর ইউনিয়নের ছোট চৌপুকুরিয়া গ্রামে।
তারা হলেন ধর্মপুর ইউনিয়নের আনসার ভিডিপি কমান্ডার কমল চন্দ্র সরকার ও তার স্ত্রী গৃহিণী লতা রানী সরকার।জানা গেছে, ২০২৩ সালে এলাকার পিছিয়ে পড়া ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর (আদিবাসী) শিশুদের কথা চিন্তা করে নিজ উদ্যোগেই বাড়িতে একটি পাঠশালা খোলেন তারা। প্রতিদিন কাজ শেষে সন্ধ্যায় ও ছুটির দিনগুলোতে তারা ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর শিশু-কিশোরদের লেখাপড়া করাচ্ছেন। তাদের এই প্রচেষ্টা ও মানবিক দৃষ্টান্ত এরই মধ্যে সবার নজর কেড়েছে।
আনসার ভিডিপি কমান্ডার কমল চন্দ্র সরকার জানান, ২০১২ সালে মৌলিক প্রশিক্ষণ শেষে তিনি আনসার সদস্য হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। সে সময় সমাজে অবহেলিত ও বঞ্চিত ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর (সাঁওতাল ও অন্যান্য) শিশুদের দুরবস্থা দেখে তার খারাপ লাগতো। তিনি উপলব্ধি করেন, শিক্ষার আলোয় আলোকিত হলেই এই শিশুরা সমাজে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারবে। সেই উপলব্ধি থেকে নিজের বাড়িতেই বিনা মূল্যে আদিবাসী শিশুদের পাঠদানের উদ্যোগ নেন। ২০২৩ সাল থেকে তিনি স্ত্রী লতা রানীর সহায়তায় ২২ জন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর শিশুকে নিয়ে বাড়িতে সান্ধ্যকালীন শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।
ওই দম্পতি মনে করেন, তাদের এই উদ্যোগ সমাজের প্রতি নিজের দায়বদ্ধতারই প্রতিফলন।শিক্ষার্থী শিশুদের পরিবারের সদস্যরা জানান, "আমরা কমল চন্দ্র সরকার ও তার স্ত্রী লতা রানী সরকারের কাছে কৃতজ্ঞ। সেই সাথে আমরা বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপি বাহিনীর প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানাই। এই দম্পতি তাদের মানবিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে আমাদের শিশুদের জীবনে নতুন আশার আলো দেখিয়েছেন।"এলাকার সচেতন মহল মনে করেন, সরকারি ও বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এমন মানুষেরা সমাজের জন্য আরও অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে পারবেন।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন