জানুয়ারি ২০, ২০২৬, ০৯:৫৮ পিএম
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং পবিত্র মাহে রমজানকে সামনে রেখে দেশে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস বা এলপিজির সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান। মঙ্গলবার দুপুরে রেল মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে এলপিজি অপারেটরদের সংগঠন ‘লোয়াব’-এর প্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সাথে আয়োজিত এক জরুরি সভায় তিনি এই নির্দেশনা প্রদান করেন।
তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে নির্বাচন ও রমজানের মতো গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এলপিজির কোনো ধরণের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে ভোক্তাদের ভোগান্তিতে ফেলা যাবে না। এটি নিশ্চিত করা বর্তমান সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার।
সভায় এলপিজি অপারেটরদের উদ্দেশ্যে ফাওজুল কবির খান বলেন চলতি জানুয়ারি ও আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে অপারেটররা যে পরিমাণ গ্যাস আমদানির প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তা যেন কেবল কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ না থেকে বাস্তবে প্রতিফলিত হয়।
আমদানির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সরকার সব ধরণের সহযোগিতা করবে জানিয়ে তিনি বলেন পরিবহন বা আনুষঙ্গিক কোনো সমস্যা থাকলে সরকার তা সমাধানে পাশে থাকবে। তবে সরবরাহ ব্যবস্থায় কোনো ধরণের শিথিলতা বা কারসাজি মেনে নেওয়া হবে না। অপারেটররা যেন তাদের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী এলপিজি বাজারে সরবরাহ করেন সে বিষয়ে উপদেষ্টা কঠোর নজরদারির নির্দেশ দিয়েছেন।
অপারেটরদের পক্ষ থেকে সভায় জানানো হয়েছে যে আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা এবং জাহাজ সংকটের কারণে সাম্প্রতিক সময়ে এলপিজি আমদানিতে কিছুটা বিঘ্ন ঘটেছিল। তবে তারা দাবি করেছেন যে অতিরিক্ত মূল্য বৃদ্ধি করার মতো কোনো পদক্ষেপ তারা নেননি এবং এ সংক্রান্ত অভিযোগগুলো সঠিক নয়। অপারেটররা উপদেষ্টাকে আশ্বস্ত করে বলেন চলতি মাসে নির্ধারিত ১ লাখ ৬৭ হাজার ৬০০ মেট্রিক টন এলপিজি আমদানির লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হলে বর্তমানে চলমান সংকট অনেকাংশে কেটে যাবে।
তারা আশা প্রকাশ করছেন যে রমজানের আগেই বাজারের পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়ে আসবে এবং সিলিন্ডারের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে ফিরবে।সভায় জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম এবং বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের বা বিইআরসির চেয়ারম্যান জালাল আহমেদসহ উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
তারা এলপিজির মূল্য স্থিতিশীল রাখা এবং বাজার তদারকি জোরদার করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। উল্লেখ্য যে সম্প্রতি বাজারে এলপিজি সিলিন্ডারের তীব্র সংকট দেখা দেওয়ায় সরকার রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান বিপিসিকেও জিটুজি ভিত্তিতে এলপিজি আমদানির অনুমতি দিয়েছে। সরকারি ও বেসরকারি উভয় খাতের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় দ্রুতই গ্যাসের বাজার স্বাভাবিক হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। সাধারণ মানুষ যাতে নির্ধারিত দামে গ্যাস পায় সে বিষয়ে জেলা প্রশাসকদেরও বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন