এপ্রিল ২০, ২০২৬, ০৪:৫৩ পিএম
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বিদ্যমান চরম উত্তেজনার মধ্যেই আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম কমেছে। সোমবার রয়টার্সের প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, বৈশ্বিক বাজারে স্বর্ণের দাম প্রায় শূন্য দশমিক সাত শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। এতে প্রতি আউন্স স্বর্ণের বর্তমান মূল্য দাঁড়িয়েছে চার হাজার ৭৯২ ডলারে।
তবে স্বর্ণের দাম কমলেও হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় তেলের দাম এবং মার্কিন ডলারের মান ক্রমবর্ধমান হারে বাড়ছে যা বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন করে উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে থাকায় কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ উপসাগরীয় অঞ্চলে পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল বর্তমানে সীমিত হয়ে পড়েছে। এর সরাসরি প্রভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে জ্বালানি তেলের বাজারে। তেলের দাম বৃদ্ধির পাশাপাশি বিশ্ব শেয়ারবাজারেও বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান স্বল্পমেয়াদি যুদ্ধবিরতি যে কোনো সময় পুরোপুরি ভেঙে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। মূলত এই অনিশ্চয়তার কারণেই বিনিয়োগকারীরা সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন। এর আগে গত ফেব্রুয়ারি মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি হামলার পর থেকে এ পর্যন্ত স্বর্ণের দাম প্রায় আট শতাংশ কমেছে।বাজার বিশ্লেষক ইলিয়া স্পিভাক পরিস্থিতির ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে বলেন যে যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে তৈরি হওয়া ইতিবাচক পরিবেশ দ্রুত ফিকে হয়ে আসছে। বৈশ্বিক বাজার এখন পুনরায় `যুদ্ধভিত্তিক লেনদেন` বা ওয়ার-বেসড ট্রেডিংয়ের দিকে ফিরে যাচ্ছে।
এর ফলে অপরিশোধিত তেলের দাম অস্বাভাবিকভাবে বাড়ছে, যা ভবিষ্যতে বড় ধরনের মূল্যস্ফীতির পথ তৈরি করছে। জ্বালানির দাম বাড়লে উৎপাদন ও পরিবহন খরচ বেড়ে যায়, যার চূড়ান্ত বোঝা সাধারণ মানুষের ওপর পড়ে।উত্তেজনার এই পালে নতুন করে হাওয়া দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের একটি পদক্ষেপ। দেশটি সম্প্রতি ইরানের একটি পণ্যবাহী জাহাজ জব্দ করার দাবি করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, জাহাজটি তাদের আরোপিত অর্থনৈতিক অবরোধ এড়িয়ে চলার চেষ্টা করছিল। এর প্রতিক্রিয়ায় ইরান পাল্টা কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
দুই দেশের এই সংঘাতময় অবস্থান বিশ্ব অর্থনীতিকে আরও টালমাটাল করে তুলছে। স্বর্ণ ছাড়াও অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর বাজারে দরপতন দেখা গেছে। রৌপ্যের দাম এক দশমিক ছয় শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৭৯.৪৯ ডলার এবং প্লাটিনামের দাম এক দশমিক তিন শতাংশ কমে দুই হাজার ৭৬ ডলারে নেমেছে। এছাড়া প্যালাডিয়ামের দামও এক শতাংশ হ্রাস পেয়ে এক হাজার ৫৪৩ ডলারে দাঁড়িয়েছে। সব মিলিয়ে বিশ্ববাজার এখন এক চরম অস্থির সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন