এপ্রিল ২৪, ২০২৬, ১১:১৯ এএম
মধ্যপ্রাচ্যে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা অব্যাহত থাকায় আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম আবারও বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালী কার্যত বন্ধ থাকায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এতে করে আমদানিকারক দেশগুলোর মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে এবং বিশ্ব অর্থনীতির স্থিতিশীলতা হুমকির মুখে পড়েছে।
শুক্রবার আন্তর্জাতিক বাজারে লেনদেনের শুরুতেই দেখা যায়, অপরিশোধিত তেলের বৈশ্বিক মানদণ্ড হিসেবে পরিচিত ব্রেন্ট ক্রুডের দাম শূন্য দশমিক ৬৩ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৫ দশমিক ৭৩ ডলারে পৌঁছেছে।
একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বাজার ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (WTI) ফিউচারের দামও শূন্য দশমিক ৩২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৬ দশমিক ১৭ ডলারে দাঁড়িয়েছে। সরবরাহ লাইনে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা তেলের মজুদ বাড়াতে শুরু করায় এই দামের ঊর্ধ্বগতি দেখা দিচ্ছে।
অন্যদিকে, কূটনৈতিক ফ্রন্টে কিছুটা স্বস্তির খবর মিলেছে। ইসরায়েল ও লেবানন তাদের মধ্যকার যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও তিন সপ্তাহ বাড়াতে সম্মত হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউসের এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক শেষে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। ট্রাম্পের মতে, এই যুদ্ধবিরতি কূটনৈতিক সমাধানের পথ প্রশস্ত করবে। তবে ইসরায়েল-লেবানন সীমান্তে উত্তেজনা কমলেও পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার ছায়াযুদ্ধ এখন সরাসরি নৌ-অবরোধে রূপ নিয়েছে। উভয় পক্ষই একে অপরের ওপর অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টির কৌশল হিসেবে হরমুজ প্রণালীকে ব্যবহার করছে।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হরমুজ প্রণালীর এই দীর্ঘমেয়াদী অচলাবস্থা বিশ্ব অর্থনীতির জন্য বড় ধরনের বিপদ ডেকে আনবে। পরিস্থিতির উন্নতি না হলে ডলারের মান আরও শক্তিশালী হতে পারে, যা উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য বাড়তি বোঝা হয়ে দাঁড়াবে। আন্তর্জাতিক শক্তি সংস্থার (IEA) প্রধান ফাতিহ বিরল এক সতর্কবার্তায় বলেছেন, বিশ্ব বর্তমানে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় জ্বালানি নিরাপত্তা সংকটের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছে। তার দেওয়া তথ্যমতে, বর্তমান অচলাবস্থার কারণে প্রতিদিন বিশ্ববাজার থেকে প্রায় ১৩ মিলিয়ন ব্যারেল তেল সরবরাহ বন্ধ রয়েছে।
বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের এই স্থবিরতা শুধু তেলের দামকেই প্রভাবিত করছে না, বরং নিত্যপ্রয়োজনীয় অন্যান্য পণ্যের পরিবহন খরচও বাড়িয়ে দিচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, কোনো এক পক্ষ পিছু না হটা পর্যন্ত এই দাম কমার সম্ভাবনা কম। এই সংকট মোকাবিলায় বিভিন্ন দেশকে দ্রুত বিকল্প জ্বালানি উৎসের দিকে নজর দেওয়ার এবং নিজেদের জ্বালানি নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে আমদানিনির্ভর দেশগুলোকে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার মাধ্যমে এই পরিস্থিতির প্রভাব কাটিয়ে ওঠার প্রস্তুতি নিতে হবে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন