মে ১৩, ২০২৬, ১১:০২ এএম
দেশের তৈরি পোশাক শিল্পে আবারও অস্বস্তি দেখা দিয়েছে। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, ইউরোপীয় বাজারে চাহিদা হ্রাস এবং অভ্যন্তরীণ উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধির কারণে চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি আয় ২.৮২ শতাংশ কমেছে।রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের জুলাই থেকে চলতি বছরের এপ্রিল পর্যন্ত তৈরি পোশাক রপ্তানি থেকে মোট আয় হয়েছে তিন হাজার ১৭২ কোটি ডলার।
এর মধ্যে নিটওয়্যার খাতে রপ্তানি কমেছে ৩.৬৮ শতাংশ এবং ওভেন খাতে কমেছে ১.৮৩ শতাংশ। বিশেষ করে প্রধান বাজার ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) রপ্তানি ৪.৩৮ শতাংশ কমে যাওয়ায় পুরো খাতে বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে।
পরিসংখ্যান বলছে, বাংলাদেশের মোট পোশাক রপ্তানির প্রায় অর্ধেক যায় ইইউভুক্ত দেশগুলোতে। চলতি অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে এই অঞ্চলে রপ্তানি হয়েছে এক হাজার ৫৫৪ কোটি ডলারের পোশাক। তবে ইউরোপে দীর্ঘস্থায়ী অর্থনৈতিক ধীরগতি ও মূল্যস্ফীতির কারণে ভোক্তাদের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডগুলো নতুন অর্ডার দেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইউরোপের অনেক দেশে খাদ্য ও জ্বালানির উচ্চমূল্যের কারণে সাধারণ মানুষ পোশাকের মতো অপ্রয়োজনীয় পণ্যে ব্যয় কমিয়ে দিয়েছে। এর পাশাপাশি শুধু ইউরোপ নয়, অপ্রচলিত বাজারগুলোতেও রপ্তানি আয় ৫.৮৩ শতাংশ কমে ৫১৬ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে। যদিও যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও যুক্তরাজ্যের বাজারে সামান্য প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে, তবে তা ইউরোপীয় বাজারের ক্ষতি পূরণের জন্য যথেষ্ট নয়।দেশের অভ্যন্তরীণ সংকটও এই পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে বলে মনে করছেন উদ্যোক্তারা। বর্তমানে শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধি, কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধি এবং পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
ডলার সংকটের কারণে আমদানিনির্ভর কাঁচামাল কিনতেও কারখানাগুলোকে অতিরিক্ত খরচ গুনতে হচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে ক্রেতারা পণ্যের বাড়তি দাম দিতে রাজি না হওয়ায় অনেক প্রতিষ্ঠান এখন লোকসানের মুখে টিকে থাকার লড়াই করছে।শিল্পাঞ্চলগুলোতে গ্যাসের চাপ কমে যাওয়া এবং ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। অনেক কারখানাকে বিকল্প হিসেবে ডিজেলচালিত জেনারেটর ব্যবহার করতে হচ্ছে, যা উৎপাদন ব্যয় আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। সময়মতো পণ্য সরবরাহ করতে না পারলে আন্তর্জাতিক ক্রেতারা ভিয়েতনাম, ভারত বা চীনের মতো বিকল্প উৎসর দিকে ঝুঁকে পড়ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিকেএমইএ-র নির্বাহী সভাপতি ফজলে ইহসান শামীম জানান, ইউরোপে অর্থনৈতিক ধীরগতি ও উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে পোশাকের চাহিদা কমেছে। এর পাশাপাশি উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি এবং জ্বালানি সংকট বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে টিকে থাকতে হলে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়ানো এবং ব্যবসা পরিচালনায় সহজীকরণ নিশ্চিত করা জরুরি বলে তিনি উল্লেখ করেন।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন