রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

প্রিমিয়ার ব্যাংক থেকে সাড়ে ১০ হাজার কোটি টাকা পাচার

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

মে ১৩, ২০২৬, ১১:৪৬ এএম

প্রিমিয়ার ব্যাংক থেকে সাড়ে ১০ হাজার কোটি টাকা পাচার

প্রিমিয়ার ব্যাংকে বড় অঙ্কের পাচারের তথ্য ফাঁস

রপ্তানি আদেশের বিপরীতে অতিরিক্ত ব্যাক-টু-ব্যাক এলসি খুলে প্রিমিয়ার ব্যাংকের নারায়ণগঞ্জ শাখা থেকে প্রায় ১০ হাজার ৫০০ কোটি টাকা পাচারের তথ্য পেয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ২০১৮ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে সংঘটিত এই অনিয়মে ব্যাংক কর্মকর্তাদের সরাসরি যোগসাজশ ও ভুয়া রপ্তানি আদেশের প্রমাণ মিলেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রিমিয়ার ব্যাংকের নারায়ণগঞ্জ শাখার ২৯ জন গ্রাহক প্রকৃত রপ্তানি আদেশের তুলনায় ১০০ শতাংশ থেকে ৩৭৫ শতাংশ পর্যন্ত অতিরিক্ত ব্যাক-টু-ব্যাক এলসি খুলেছেন। বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, প্রকৃত রপ্তানি আয়ের সর্বোচ্চ ৮০ শতাংশ পর্যন্ত এলসি খোলার সুযোগ থাকলেও প্রতিষ্ঠানগুলো সীমার অতিরিক্ত ৯৬৮ দশমিক ১৪ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ১০ হাজার ৪৫৫ দশমিক ৯৫ কোটি টাকা) পাচার করেছে।

তদন্তে আরও দেখা গেছে, এসব এলসির বিপরীতে আমদানি করা কাঁচামাল রপ্তানি শিল্পে ব্যবহারের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। আমদানিকৃত পণ্যগুলো স্থানীয় বাজারে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। 

এছাড়া ২৯টি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ডিউটি ড্র-ব্যাক ও বন্ডেড ওয়্যারহাউস লাইসেন্স সুবিধার অপব্যবহারের মাধ্যমে রাজস্ব ফাঁকির তথ্য পেয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।অনিয়মের চিত্রে দেখা যায়, টোটাল ফ্যাশন ৩৬৪ মিলিয়ন ডলারের রপ্তানি আদেশ দেখিয়ে ২৩১ মিলিয়ন ডলারের এলসি খুললেও প্রকৃত রপ্তানি করেছে মাত্র ৬২ মিলিয়ন ডলার। একইভাবে অ্যাভান্টি কালার টেক্স ২৯০ মিলিয়ন ডলারের বিপরীতে ১৪৬ মিলিয়ন ডলারের এলসি খুলে রপ্তানি করেছে মাত্র ৬৭ মিলিয়ন ডলার। এছাড়া আহোনা নিট কম্পোজিট ১৩ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের রপ্তানির বিপরীতে ৯৯ মিলিয়ন ডলারের এলসি খুলেছে।

তদন্তে নাম আসা বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম দাবি করেছেন, অনেক রপ্তানিকারক তাদের নামে খোলা এলসির বিষয়ে জানতেন না। তিনি অভিযোগ করেন, ব্যাংক কর্মকর্তারা রপ্তানি আয়ের অর্থ আটকে রেখে ভুয়া কাগজপত্রে স্বাক্ষর নিতে বাধ্য করেছেন। তাঁর দুটি প্রতিষ্ঠানের নামও এই তালিকায় রয়েছে।

তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, অনিয়মের পুরো সময়জুড়ে মো. শহীদ হাসান মল্লিক প্রিমিয়ার ব্যাংকের নারায়ণগঞ্জ শাখার ব্যবস্থাপক ছিলেন। নীতিমালা লঙ্ঘন করে তিনি একই শাখায় টানা ১০ বছর দায়িত্ব পালন করেন। বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, শাখা ব্যবস্থাপকসহ জড়িত কর্মকর্তাদের যোগসাজশেই এই অনিয়মগুলো সংঘটিত হয়েছে।

যদিও তদন্ত প্রতিবেদন ২০২৩ সালেই সম্পন্ন হয়েছিল, তবে প্রভাবশালী মহলের চাপে ব্যবস্থা নিতে বিলম্ব হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। চলতি বছরের মার্চে শাখাটির অথরাইজড ডিলার (এডি) লাইসেন্স বাতিল করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। প্রিমিয়ার ব্যাংকের বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মনজুর মফিজ জানান, জড়িত কর্মকর্তাদের চাকরিচ্যুত করা হয়েছে এবং বিষয়টি দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) জানানো হয়েছে।বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু লাইসেন্স বাতিল যথেষ্ট নয়; ব্যাংকের তৎকালীন পরিচালনা পর্ষদ ও ঊর্ধ্বতন ব্যবস্থাপনার জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি। বর্তমানে ব্যাংকটির প্রধান কার্যালয়সহ কয়েকটি শাখায় ফরেনসিক অডিট চলছে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।