জুন ৯, ২০২৬, ০৩:৩৮ পিএম
আগামী বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার রেকর্ড বাজেট পেশ করবেন। বর্তমান সরকারের প্রথম এই বাজেটটি আকার ও ঘাটতির দিক থেকে দেশের ইতিহাসে একটি মাইলফলক হতে যাচ্ছে। বাজেট ঘাটতি মেটাতে সরকার ব্যাংকিং খাত থেকে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনা করছে।
বাজেটের মূল দর্শন ও অগ্রাধিকার এবারের বাজেটের মূল লক্ষ্য ‘বিনিয়ন্ত্রণকরণ’ এবং ‘সৃজনশীল অর্থনীতির’ মাধ্যমে ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির স্বপ্ন বাস্তবায়ন। দারিদ্র্য নিরসন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং সামাজিক নিরাপত্তা খাতকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ও ‘কৃষক কার্ড’-এর মতো কর্মসূচিগুলোর কলেবর বাড়ানো হচ্ছে।
অর্থনৈতিক সূচক ও লক্ষ্যমাত্রা
রাজস্ব আয়: মোট ৭ লাখ কোটি টাকার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, যার মধ্যে ৬ লাখ ৪০ হাজার কোটি টাকা এনবিআর সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা।
এডিপি: বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আকার নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ লাখ কোটি টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।
প্রবৃদ্ধি ও মূল্যস্ফীতি: আগামী অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৬.৫ শতাংশ এবং মূল্যস্ফীতি ৭.৫ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
অতীতের চিত্র ও বর্তমান চ্যালেঞ্জ অর্থমন্ত্রী তার বাজেট বক্তৃতায় বিগত সরকারের আমলের অর্থনৈতিক অব্যবস্থাপনার চিত্র তুলে ধরবেন। বিগত ২০ বছরে বৈদেশিক ঋণের ৬ গুণের বেশি বৃদ্ধি এবং ঋণের সুদ পরিশোধের ব্যয় ১ লাখ ১৪ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছানোর বিষয়টি উদ্বেগজনক বলে মনে করছে বর্তমান সরকার। এই প্রেক্ষাপটে অর্থনৈতিক পুনর্গঠন ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।
সামগ্রিকভাবে, এবারের বাজেটটি দেশের অর্থনীতিকে একটি টেকসই ও প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানে ফিরিয়ে নেওয়ার রূপরেখা হিসেবে গণ্য হচ্ছে। সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় সহনীয় রাখতে সরকার মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের ওপর বিশেষ নজর দিচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, বাজেট বাস্তবায়নের মাধ্যমে এই স্বপ্নগুলো কতটা সফলভাবে অর্জিত হয়।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন