এপ্রিল ২৩, ২০২৬, ১০:০৫ এএম
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ সম্প্রতি এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুলেছেন। বুধবার প্রক্টর অফিসের সামনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি দাবি করেন যে ছাত্রদল নেতা মো. আলাউদ্দিন এবং তার সহযোগীরা তাকে প্রকাশ্যে পথরোধ করে হেনস্তা করেছেন।
মুসাদ্দিকের ভাষ্যমতে ঘটনার সময় তিনি কলা ভবনের পেছনের গেট দিয়ে নিজ ক্লাসের দিকে যাচ্ছিলেন এবং তখনই একদল যুবক তার গতিপথ আটকে দেয়। তাদের নেতৃত্বে থাকা আলাউদ্দিন তাকে উদ্দেশ্য করে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেন এবং এক পর্যায়ে তার দাঁত ফেলে দেওয়ার হুমকি দেন।
মুসাদ্দিক বলেন যে তাকে সেখানে দীর্ঘ সময় আটকে রেখে মানসিকভাবে নির্যাতন করা হয়েছে এবং আলাউদ্দিন বারবার তার দিকে তেড়ে আসছিলেন।
যদি সেখানে উপস্থিত অন্য শিক্ষার্থীরা তাকে সরিয়ে না নিতেন তবে বড় কোনো শারীরিক লাঞ্ছনার ঘটনা ঘটতে পারত বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।এই ঘটনার পর ক্যাম্পাসের ছাত্র রাজনীতিতে নতুন করে অস্থিরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতা মো. আলাউদ্দিন যিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী তার বক্তব্য অবশ্য ভিন্ন। তিনি সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে তিনি কোনো হামলা বা হুমকির ঘটনা ঘটাননি বরং মুসাদ্দিক তার নামে যে সব মিথ্যা প্রচারণা চালাচ্ছিলেন তার জবাব চেয়েছেন মাত্র।
আলাউদ্দিনের দাবি অনুযায়ী মুসাদ্দিক রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছিলেন যা একজন নিয়মিত ছাত্র হিসেবে তার সম্মানহানি ঘটিয়েছে। আলাউদ্দিন আরও যোগ করেন যে বিশ্ববিদ্যালয়ে সবার কথা বলার অধিকার রয়েছে এবং তিনি অত্যন্ত মার্জিতভাবেই মুসাদ্দিকের কাছে তার অপপ্রচারের কারণ জানতে চেয়েছিলেন। তবে মুসাদ্দিক এই দাবি নাকচ করে দিয়ে প্রক্টর বরাবর বিচার দাবি করেছেন। ডাকসু নেতার এই অভিযোগের পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এবং প্রক্টরিয়াল টিম বিষয়টি নিয়ে প্রাথমিক তদন্ত শুরু করেছে।
সাধারণ শিক্ষার্থীদের দাবি ক্যাম্পাসের শিক্ষার পরিবেশ রক্ষায় এই ধরণের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত। ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয় সেদিকে কড়া নজরদারি রাখতে প্রক্টরকে অনুরোধ জানিয়েছেন মুসাদ্দিক।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন