ডিসেম্বর ২৭, ২০২৫, ১২:৪৮ পিএম
পিত্তথলির পাথর অনেক সময় শরীরে নীরবে দানা বাঁধে, কোনো পূর্বলক্ষণ ছাড়াই। কিন্তু যখন এটি পিত্তনালিতে বাধার সৃষ্টি করে, তখন তীব্র পেটব্যথা, বমি ও বদহজমের মতো যন্ত্রণাদায়ক সমস্যা দেখা দেয়। আধুনিক চিকিৎসকদের মতে, আমাদের অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন এবং দৈনন্দিন কিছু ভুল অভ্যাসই মূলত এই রোগের প্রধান কারণ।
পুনের ম্যানিপাল হাসপাতালের সার্জিক্যাল গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিস্ট ডা. অনিকেত পায়াগুডে ৫টি অভ্যাসের কথা জানিয়েছেন যা দ্রুত পিত্তথলিতে পাথর তৈরি করতে পারে:
১. নিয়মিত খাবার বাদ দেওয়া (Skipping Meals): দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকলে পিত্তথলিতে পিত্ত জমে ঘন হয়ে যায়। এতে পিত্তরসে থাকা কোলেস্টেরল ঘনীভূত হয়ে পাথর তৈরির সুযোগ পায়।
২. অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত ও ভাজাপোড়া খাবার: ফাস্টফুড, অতিরিক্ত তেল ও প্রসেসড খাবার পিত্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। দীর্ঘ সময় এমন ডায়েট পিত্তথলির বারোটা বাজাতে পারে।
৩. কায়িক পরিশ্রমের অভাব: সারাদিন বসে থাকা বা শারীরিক পরিশ্রম না করলে শরীরের বিপাকক্রিয়া ধীর হয়ে যায়। স্থূলতা বা অতিরিক্ত ওজন গলস্টোনের অন্যতম বড় কারণ।
৪. হঠাৎ দ্রুত ওজন কমানো (Crash Diet): সুষম নিয়ম না মেনে দ্রুত ওজন কমালে লিভার অতিরিক্ত কোলেস্টেরল তৈরি করে। এতে পিত্তের ভারসাম্য নষ্ট হয় এবং পাথরের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়।
৫. খাবারে পর্যাপ্ত ফাইবার ও পানির অভাব: শাকসবজি, ফলমূল ও পর্যাপ্ত পানি পান না করলে পিত্ত তরল থাকে না। ফাইবারহীন খাবার পিত্ত সঞ্চালন ধীর করে দেয়, যা শেষ পর্যন্ত পাথরে রূপ নেয়।
কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন? বারবার পেটের উপরের দিকে তীব্র ব্যথা, বমিভাব বা জন্ডিসের লক্ষণ দেখা দিলে দেরি করা উচিত নয়। জটিলতা বাড়লে চিকিৎসকরা ল্যাপারোস্কোপিক অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে পিত্তথলি অপসারণের পরামর্শ দেন। সুস্থ থাকতে আজই আপনার খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনুন।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন