জানুয়ারি ২, ২০২৬, ০৩:৩৭ পিএম
শীতকালের মনোরম আবহাওয়া উপভোগ্য হলেও এই সময়ে হৃদযন্ত্রের বিশেষ যত্ন নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। ঠান্ডা আবহাওয়ায় শরীরের রক্তনালিগুলো সংকুচিত হয়ে যায়, যার ফলে রক্ত চলাচলের স্বাভাবিক গতি বজায় রাখতে হৃদযন্ত্রকে অতিরিক্ত পরিশ্রম করতে হয়। এই বাড়তি চাপের কারণে রক্তচাপ বেড়ে যাওয়া, হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোকের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়।
বিশেষ করে শীতের দিনে আমাদের তেল-মসলাযুক্ত খাবার, মিষ্টি ও ভাজাভুজি খাওয়ার প্রবণতা বাড়ে, যা হৃদযন্ত্রের জন্য মোটেও সুখকর নয়।
তাই এই মৌসুমে সঠিক খাদ্যতালিকা নির্বাচন করা সুস্থ থাকার প্রধান শর্ত।শীতের দিনে হৃদযন্ত্রকে শক্তিশালী রাখতে সবুজ শাকসবজির কোনো বিকল্প নেই। পালং শাক, সরিষা শাক বা কেলে শাকের মতো সবজিতে প্রচুর পটাশিয়াম ও ম্যাগনেশিয়াম থাকে যা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে।
এছাড়া কমলা বা মাল্টার মতো লেবুজাতীয় ফল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি হৃদযন্ত্রের প্রদাহ কমায়। ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড সমৃদ্ধ চর্বিযুক্ত মাছ যেমন স্যালমন বা সার্ডিন খাওয়ার পাশাপাশি দেশি রুই, কাতলা বা ইলিশও পরিমিত পরিমাণে খাওয়া উপকারী। এছাড়া খাদ্যতালিকায় ওটস, লাল চাল, বাদাম, তিসি বীজ এবং চিয়া সিড রাখা যেতে পারে, যা ধমনিগুলোকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। রান্নায় রসুন, হলুদ ও দারুচিনির মতো ভেষজ উপাদানের ব্যবহার কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ভূমিকা রাখে।সুস্থ থাকতে কিছু খাবার এড়িয়ে চলাও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
প্রক্রিয়াজাত খাবার, প্যাকেটজাত স্ন্যাকস বা চিপস এবং ফাস্ট ফুড সরাসরি হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায় কারণ এগুলোতে ক্ষতিকর ট্রান্স ফ্যাট ও লবণের পরিমাণ অনেক বেশি থাকে। অতিরিক্ত চিনিযুক্ত কোল্ড ড্রিংকস, কফি বা পরিশোধিত শর্করা যেমন সাদা পাউরুটি ও কেক রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়িয়ে হৃদযন্ত্রের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে। ভাজা খাবার বা অতিরিক্ত লবণযুক্ত ক্যানজাত স্যুপ এড়িয়ে চলাই ভালো। খাবারের পাশাপাশি পর্যাপ্ত পানি পান করা এবং ঘরে বসে হালকা ব্যায়াম বা যোগব্যায়াম করার অভ্যাস গড়ে তোলা উচিত। প্রতিদিন ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন ঘুম এবং মানসিক চাপমুক্ত জীবনযাপনই শীতের এই সময়ে আপনার হৃদযন্ত্রকে সবচেয়ে সুরক্ষিত রাখবে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন