এপ্রিল ২২, ২০২৬, ০৪:০২ পিএম
দেশের সরকারি স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থায় জনবল সংকট নিরসনে এক বিশাল কর্মসংস্থান ও সেবার মানোন্নয়ন পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে ঘোষণা দিয়েছেন যে, খুব দ্রুত স্বাস্থ্য খাতের বিভিন্ন পদে ১ লাখ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে।
একই সঙ্গে তৃণমূল পর্যায়ে কর্মরত চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিয়ে দীর্ঘদিনের যে উদ্বেগ ছিল, তা দূর করতে প্রতিটি উপজেলা হাসপাতালে ১০ জন করে সশস্ত্র আনসার সদস্য মোতায়েন করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বুধবার দুপুরে রাজধানীর শাহবাগে বাংলাদেশ-চীন জয়েন্ট সার্জিক্যাল ক্লিনিক চালুর লক্ষে আয়োজিত এক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এসব তথ্য জানান। অনুষ্ঠানে চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন এবং স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত উপস্থিত ছিলেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, চীনের কারিগরি ও অবকাঠামোগত সহযোগিতায় দেশে যৌথ সার্জিক্যাল ক্লিনিক ও ভ্রাম্যমাণ চিকিৎসাসেবা দ্রুতই চালু হতে যাচ্ছে। এর ফলে বিশেষ করে জটিল অস্ত্রোপচার ও তৃণমূলের চিকিৎসাসেবা আধুনিক মানের হবে এবং সাধারণ মানুষ সহজে উন্নত সেবা পাবে।উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালে চিকিৎসকদের ওপর হামলার ঘটনা এবং কর্মস্থলের নিরাপত্তা নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে বেশ আলোচনা হয়েছে।
এই প্রেক্ষাপট তুলে ধরে মন্ত্রী জানান, জনসেবায় নিয়োজিত চিকিৎসকরা যাতে নির্ভয়ে দায়িত্ব পালন করতে পারেন, সে জন্য সরকার সশস্ত্র আনসার মোতায়েনের এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে যাচ্ছে। তিনি বিশ্বাস করেন, হাসপাতালের নিরাপত্তা নিশ্চিত হলে রোগীরাও সুশৃঙ্খল পরিবেশে সেবা গ্রহণ করতে পারবেন। এর আগে চিকিৎসকদের বিভিন্ন সংগঠন থেকে এ বিষয়ে জোরালো দাবি জানানো হয়েছিল, যা এখন আলোর মুখ দেখতে যাচ্ছে।
বর্তমানে দেশে ছড়িয়ে পড়া হামের প্রাদুর্ভাব নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে কিছুটা উদ্বেগ রয়েছে। এই বিষয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী দেশের মানুষকে আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়ে বলেন যে, হামের সংক্রমণ কিছুটা বাড়লেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে নয়। সরকারের কাছে আগামী ছয় মাসের জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণ টিকার মজুত রয়েছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ২৫ হাজার ৯৩৫ জন শিশুর মধ্যে হামের উপসর্গ দেখা দিলেও চিকিৎসার মাধ্যমে একটি বড় অংশ এরই মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত এ সময় নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী অসংক্রামক ব্যাধি নিয়ন্ত্রণে গবেষণার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার কথা উল্লেখ করেন। ১ লাখ নতুন নিয়োগের এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে দেশের স্বাস্থ্য খাতের বর্তমান ভঙ্গুর দশা অনেকাংশে কেটে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন