অক্টোবর ১, ২০২৬, ১২:৩৬ পিএম
বাংলাদেশে ভারতীয় আধিপত্যবাদ কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন জাতীয় বিপ্লবী পরিষদের আহ্বায়ক খোমেনী ইহসান। দেশের সার্বভৌমত্বের ওপর যেকোনো ধরনের আগ্রাসী মনোভাব বিনা প্রতিরোধে মেনে নেওয়া হবে না বলেও স্পষ্ট জানিয়েছেন তিনি।
প্রয়োজনে দেশের সর্বস্তরের জনগণকে সঙ্গে নিয়ে রাজপথে রক্তক্ষয়ী প্রতিরোধ গড়ে তোলার অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টায় রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঘেরাও কর্মসূচির প্রাক্কালে আয়োজিত এক প্রতিবাদ সমাবেশে তিনি এসব বক্তব্য তুলে ধরেন।
ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনারের তৎপরতা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি। আন্তর্জাতিক ভিয়েনা কনভেনশনের নিয়মাবলী স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, একজন কূটনীতিকের দায়িত্ব কেবলমাত্র নির্দিষ্ট কূটনৈতিক যোগাযোগের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকা উচিত। কিন্তু আয়োজক দেশের অভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক বিষয়ে নাক গলিয়ে ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী সচিবালয়সহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সরকারি কার্যালয়ে দফায় দফায় প্রবেশ করছেন। স্বাধীন রাষ্ট্রের প্রশাসনিক স্বাধীনতার জন্য এটি সম্পূর্ণ অবমাননাকর এবং পেশাদার কূটনৈতিক শিষ্টাচারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
তিনি অভিযোগ করেন, জুলাই অভ্যুত্থানে গণহত্যার দায়ে দণ্ডিত শেখ হাসিনা ও ওবায়দুল কাদেরের মতো ব্যক্তিদের আশ্রয় দিয়ে দিল্লি সরকার তাদের প্রত্যর্পণ না করে উল্টো কূটনৈতিক পর্যায়ে উপহাসমূলক আচরণ প্রদর্শন করছে।
বাংলাদেশের প্রতি ইঞ্চি মাটি স্বাধীন ও অখণ্ড।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, জাতীয় বিপ্লবী পরিষদ দেশের সার্বভৌমত্ব সুরক্ষায় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ এবং শেষ পর্যন্ত একজন কর্মী বেঁচে থাকলেও রক্ত দিয়ে যেকোনো আধিপত্যবাদ প্রতিহত করা হবে।
বিগত দেড় দশকের শাসনব্যবস্থার প্রসঙ্গ টেনে তিনি উল্লেখ করেন, শেখ হাসিনার বিগত ১৬ বছরের শাসনামলে বাংলাদেশে নজিরবিহীন দাসত্ব চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল এবং সেখানে নিযুক্ত ভারতের দূত ভাইসরয়ের ন্যায় ভূমিকা পালন করেছেন। কিন্তু বর্তমান প্রেক্ষাপটে সেই আধিপত্য প্রতিহত করার উপযুক্ত সময় এসেছে। সরকারি পর্যায়ের কেউ ভারতীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে আপস করার চেষ্টা করলেও জনগণ তা প্রতিহত করবে এবং বাংলাদেশ কারও অঙ্গরাজ্য নয় বলে স্মরণ করিয়ে দেন তিনি।
সমাবেশে জাতীয় বিপ্লবী পরিষদের সদস্যসচিব ডা. নাবিল আহমদ, সহকারী সদস্যসচিব আব্দুস সালাম ও মো. সাইদুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। সংহতি জানিয়ে বক্তব্য দেন ইসলামী ঐক্যজোটের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা মীর শওকত আমীন ও মহাসচিব মাওলানা আবদুল করিম।
এছাড়া নবাব সলিমুল্লাহ অ্যাকাডেমির চেয়ারম্যান মো. আবদুল জব্বার, শাহ নাজমুল হাসান ফেরদৌস, প্যান ইসলামী মুভমেন্টের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মোস্তফা জামাল ভূঁইয়া, আগ্রাসন ও দুর্নীতি প্রতিরোধ ফ্রন্টের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মাঈন উদ্দীন এবং বিপ্লবী ছাত্র পরিষদের কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক আবদুল ওয়াহেদ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন