বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর, ২০২৬,
নারী স্বাস্থ্য সচেতনতা

স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি ও প্রাথমিক শনাক্তকরণ

স্বাস্থ্য ডেস্ক

অক্টোবর ১, ২০২৬, ১২:২১ পিএম

স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি ও প্রাথমিক শনাক্তকরণ

ছবি: Ai

ক্যানসার নিয়ে সমাজে আতঙ্ক থাকলেও ভয় দূর করতে সবচেয়ে বেশি কার্যকর হলো সঠিক তথ্য ও সময়োপযোগী সচেতনতা। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যমতে ২০২৪ সালে বিশ্বে প্রায় ২৪ লাখ নারী নতুন করে স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত হয়েছেন এবং প্রাণ হারিয়েছেন প্রায় সাত লাখ নারী। বাংলাদেশে সামাজিক সংকোচ, লক্ষণকে গুরুত্ব না দেওয়া এবং দেরিতে পরীক্ষা করার কারণে অনেক ক্ষেত্রেই রোগটি জটিল আকার ধারণ করে। অথচ প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করা গেলে এই রোগ নিরাময় সম্ভব। স্তন ক্যানসার সৃষ্টি হয় মূলত কোষের অস্বাভাবিক অনিয়ন্ত্রিত বৃদ্ধির কারণে।

কোষের এই অতিরিক্ত বৃদ্ধি থেকে টিউমার বা গুটি তৈরি হয়, তবে স্তনের প্রতিটি গুটিই কিন্তু ক্যানসার নয়। কোনো একক নির্দিষ্ট কারণে এই রোগ হয় না। বয়স বৃদ্ধি, জিনগত প্রভাব, প্রজনন বৈশিষ্ট্য এবং অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাত্রা এর পেছনে ভূমিকা রাখে। মা, বোন বা মেয়ের মতো নিকটাত্মীয়ের এই রোগের ইতিহাস থাকলে ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। মেনোপজের পর অতিরিক্ত ওজন, শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা, ধূমপান, জর্দা-গুলের মতো তামাকজাত পণ্য এবং অ্যালকোহল সেবন এই ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে তোলে। অল্প বয়সে প্রথম মাসিক শুরু হওয়া, বেশি বয়সে প্রথম সন্তান গ্রহণ, পূর্ণ গর্ভধারণ না হওয়া এবং দীর্ঘকাল মাসিক চক্র চলার বিষয়টিও ঝুঁকির তালিকায় রয়েছে। সন্তানকে নিয়মিত বুকের দুধ খাওয়ালে ঝুঁকি কিছুটা কমে।

ব্যথা না থাকলেই যে ক্যানসার নেই এমন ধারণা পুরোপুরি ভুল। প্রকৃতপক্ষে প্রাথমিক স্তরের স্তন ক্যানসারে সাধারণত কোনো শারীরিক ব্যথা অনুভূত হয় না। একইভাবে স্তনে ব্যথা হলেই তা ক্যানসার নয়, বরং তা হরমোনের পরিবর্তন বা সাধারণ সংক্রমণের কারণেও হতে পারে। নারীদের পাশাপাশি পুরুষের শরীরেও বিরল ক্ষেত্রে এই রোগ বাসা বাঁধতে পারে। পুরুষের স্তনে অস্বাভাবিক গুটি, বৃন্তের পরিবর্তন কিংবা নিঃসরণ দেখা দিলে চিকিৎসকের কাছে যাওয়া জরুরি।

আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে স্তনের বাহ্যিক আকার ও ত্বকের পরিবর্তন খেয়াল করা উচিত। স্বাভাবিক স্পর্শে নতুন কোনো শক্ত গুটি অনুভব করলে তা অবহেলা করা ঠিক নয়। তবে শুধু নিজে হাত দিয়ে দেখে বা উপসর্গ মেপে রোগ নিশ্চিত হওয়া যায় না। বয়স ও শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে চিকিৎসকরা প্রয়োজনীয় চিত্রভিত্তিক পরীক্ষা এবং সন্দেহজনক অংশের টিস্যু পরীক্ষার পরামর্শ দেন। ঝুঁকি কমাতে সুষম খাদ্যাভ্যাস, অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার বর্জন, পর্যাপ্ত বিশ্রাম এবং নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রমের অভ্যাস গড়ে তোলা প্রয়োজন। দীর্ঘ সময় ধরে চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র ছাড়া হরমোন ওষুধ গ্রহণ থেকে বিরত থাকা এবং যেকোনো অস্বাভাবিকতায় দ্রুত পরামর্শ নেওয়াই সুরক্ষার মূল চাবিকাঠি।