বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর, ২০২৬,
ক্ষতিকর পানীয়ের ঝুঁকি

ক্ষতিকর পানীয়ের তালিকা: অজান্তে শরীরের ক্ষতি যেভাবে

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

অক্টোবর ১, ২০২৬, ১২:২৮ পিএম

ক্ষতিকর পানীয়ের তালিকা: অজান্তে শরীরের ক্ষতি যেভাবে

বাজারে স্বাস্থ্যকর বা চাঙ্গা করার পানীয় হিসেবে পরিচিত অনেক তরল খাবারই বাইরে থেকে যতটা নিরীহ মনে হয় বাস্তবে তা নয়। অতিরিক্ত চিনি, কৃত্রিম উপাদান ও উচ্চমাত্রার ক্যাফেইনের উপস্থিতির কারণে প্রতিনিয়ত পান করা বেশ কিছু সাধারণ পানীয় শরীরের ওপর মারাত্মক দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলছে।

ফ্রুট জুস স্বাস্থ্যকর মনে করা হলেও এতে স্বাভাবিক ফাইবার প্রায় থাকেই না। ফল থেকে রস তৈরির সময় চিনি শোষণে সহায়ক আঁশ বা ফাইবার বাদ পড়ে যায়। ফলে ফলের স্বাদযুক্ত এই মিষ্টি পানীয় রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বাড়িয়ে দেয়। এর প্রভাবে রক্তে শক্তির মাত্রা হঠাৎ কমে গিয়ে কিছুক্ষণের মধ্যেই প্রচণ্ড ক্ষুধা তৈরি হয়। তাই আস্ত ফল খাওয়া অথবা ফলের রসের সঙ্গে পানি মিশিয়ে হালকা করে পান করাই নিরাপদ।

দ্রুত শক্তি জোগানোর জন্য জনপ্রিয় এনার্জি ড্রিংকসে থাকে অতিরিক্ত চিনি ও ক্যাফেইন। হঠাৎ করে শক্তি বাড়িয়ে দিলেও এই সংমিশ্রণের কারণে ব্যক্তি কিছুক্ষণের মধ্যেই অতিরিক্ত অবসাদগ্রস্ত হয়ে পড়েন। প্রতিনিয়ত এমন পানীয় পানের ফলে উদ্বেগ, হৃদস্পন্দন বৃদ্ধি এমনকি অনিদ্রার মতো মারাত্মক সমস্যা দেখা দেয়। বিকল্প হিসেবে গ্রিন টি বেছে নেওয়া যায়, যা প্রয়োজনীয় অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের পাশাপাশি শরীরকে পরিমিত ক্যাফেইন জোগায়।

আইসড কফিতে অতিরিক্ত চিনি ও চর্বিযুক্ত ক্রিমের উপস্থিতির কারণে এটি বিপুল ক্যালোরির একটি আধারে পরিণত হয়। এই ক্ষতিকর সংযোজনগুলোর কারণে কফিতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের প্রকৃত উপকারিতা নষ্ট হয়ে যায়।

নিয়মিত চিনিযুক্ত আইসড কফি পানে ওজন বৃদ্ধি পায়।

সেই সঙ্গে রক্তের শর্করার মাত্রাও বিপজ্জনক হারে বেড়ে যায়। তাই চিনি ছাড়া কিংবা অত্যন্ত হালকা মিষ্টির আইসড কফি পান করার অভ্যাস গড়ে তোলা ভালো।

অন্যদিকে ফ্লেভারযুক্ত পানিতেও প্রায়ই এমন সব কৃত্রিম ফ্লেভার ও মিষ্টি থাকে যা স্পষ্টভাবে বোঝার সুযোগ থাকে না। কৃত্রিম এই উপাদানগুলো কোনো পুষ্টি না জুগিয়ে উল্টো শরীরে অপ্রয়োজনীয় ক্যালোরি প্রবেশ করায় এবং পানির স্বাভাবিক আর্দ্রতা পূরণে বাধা দেয়। সাধারণ পানির সাথে পছন্দমতো তাজা ফলের টুকরো বা ভেষজ উপাদান মিশিয়ে পান করা এর চেয়ে অনেক বেশি কার্যকর।

সুস্বাদু ও ঘন মিল্কশেকে থাকে প্রচুর পরিমাণে ক্যালোরি, চিনি এবং সম্পৃক্ত চর্বি বা স্যাচুরেটেড ফ্যাট। এই পানীয় নিয়মিত গ্রহণে শরীরের কোলেস্টেরলের মাত্রা দ্রুত বৃদ্ধি পায় এবং দীর্ঘমেয়াদে ওজন নিয়ন্ত্রণে সংকট তৈরি হয়। নিয়মিত খাওয়ার ক্ষেত্রে মিল্কশেকের বদলে তাজা ফল ও কম চর্বিযুক্ত দই দিয়ে তৈরি স্বাস্থ্যকর স্মুদি খেলে প্রয়োজনীয় পুষ্টি ও সুস্বাদু স্বাদ দুটোই নিশ্চিত হয়।