সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

অতিরিক্ত কিশমিশ খেলে শরীরে হতে পারে যেসব সমস্যা

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬, ০৬:২৭ পিএম

অতিরিক্ত কিশমিশ খেলে শরীরে হতে পারে যেসব সমস্যা

মিষ্টি খাবার, পোলাও বা পায়েসের স্বাদ বাড়াতে কিশমিশের ব্যবহার দীর্ঘদিনের হলেও স্বাস্থ্য সচেতন ব্যক্তিরা এটি নিয়মিত খান। ফাইবার, প্রোটিন, আয়রন, পটাসিয়াম ও কপারের মতো প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদানে ভরপুর এই শুকনো ফল শরীরের শক্তি জোগাতে এবং হাড়ের সুরক্ষায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখে। পরিমিত মাত্রায় এটি উপকারী হলেও অনিয়ন্ত্রিতভাবে খেলে শরীরে নানা জটিলতা দেখা দেয়। সারারাত পানিতে ভিজিয়ে রেখে সকালে খালি পেটে কিশমিশ খাওয়ার অভ্যাস অনেকের রয়েছে। তবে ক্ষুধা পেলেই মুঠো মুঠো কিশমিশ খাওয়ার প্রবণতা ডেকে আনে স্বাস্থ্যঝুঁকি। 

বিশেষ করে যারা ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছেন, তাদের ক্ষেত্রে কিশমিশের পরিমাণের ওপর কড়া নজর রাখা প্রয়োজন। বিশেষজ্ঞদের মতে, একজন সুস্থ ব্যক্তির জন্য দিনে সাধারণত ৪০ থেকে ৫০ গ্রাম পর্যন্ত কিশমিশ গ্রহণ নিরাপদ। এই পরিমাণের চেয়ে বেশি খেলে উল্টো শারীরিক অসুস্থতা সৃষ্টি হতে পারে। ভিটামিন, খনিজ ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে সমৃদ্ধ হলেও অতিরিক্ত কিশমিশ সবার জন্য নিরাপদ নাও হতে পারে।

কারো কারো ক্ষেত্রে এটি তীব্র অ্যালার্জির প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। এর প্রভাবে গলা ব্যথা, খুসখুসে কাশি কিংবা ত্বকে লালচে চুলকানি ও র‍্যাশের মতো অস্বস্তিকর লক্ষণ প্রকাশ পেতে পারে। পর্যাপ্ত ফাইবার হজমপ্রক্রিয়াকে স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করলেও অতিরিক্ত ফাইবার বিপরীত বিপত্তি ঘটায়। কিশমিশে প্রচুর আঁশ থাকে, যা প্রয়োজনের তুলনায় বেশি খেলে পেটের মধ্যে অস্বস্তি ও ফাঁপা ভাব তৈরি করে। একই সাথে পর্যাপ্ত পানি পান না করে বেশি কিশমিশ খেলে হজমের গোলমাল দেখা দেয় এবং শরীরে পানিশূন্যতা সৃষ্টির আশঙ্কা তৈরি হয়।

কিশমিশ স্বাভাবিক রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক এবং উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের জন্য এটি উপকারী হিসেবে বিবেচিত। তবে অতিরিক্ত পরিমাণে খাওয়ার কারণে কারো কারো ক্ষেত্রে রক্তচাপ স্বাভাবিকের চেয়ে অতিরিক্ত কমে যাওয়ার ঝুঁকি থেকে যায়। আকারে ছোট হলেও কিশমিশে ক্যালরির ঘনত্ব অনেক বেশি থাকে। ফলে পরিমাণের হিসাব ছাড়া প্রতিদিন অতিরিক্ত কিশমিশ খেলে শরীরে মোট ক্যালরি গ্রহণের মাত্রা অস্বাভাবিক বেড়ে যায়। এই বাড়তি ক্যালরি সরাসরি ওজন বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে।

এতে প্রচুর পরিমাণে প্রাকৃতিক চিনি বা ফ্রুক্টোজ উপস্থিত থাকে। অনিয়ন্ত্রিতভাবে বেশি কিশমিশ খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বৃদ্ধি পেতে পারে। বিশেষ করে যাদের ডায়াবেটিস বা রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখা বাধ্যতামূলক, তাদের জন্য কিশমিশ গ্রহণের পরিমাণ নির্দিষ্ট রাখা অত্যন্ত জরুরি। পুষ্টিকর খাবার হলেই তা যত বেশি খাওয়া হবে তত বেশি সুফল মিলবে এমন ধারণা বৈজ্ঞানিকভাবে সঠিক নয়, বরং স্বাস্থ্য ভালো রাখতে পরিমাণ জেনে খাওয়াই মূল চাবিকাঠি।