মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

মুখের চেয়ে ঘাড় কালো দেখায় যেসব শারীরিক কারণে

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬, ১২:৩১ পিএম

মুখের চেয়ে ঘাড় কালো দেখায় যেসব শারীরিক কারণে

ছবি তোলার সময় কিংবা উজ্জ্বল আলোর নিচে মুখের রঙের তুলনায় ঘাড় দৃশ্যমানভাবে বেশি কালো দেখালে অনেকেই অস্বস্তিতে পড়েন। তবে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘাড়ের ত্বক কালো হয়ে যাওয়া মানেই সেটি অপরিচ্ছন্নতা বা ময়লা জমার লক্ষণ নয়। অসচেতনভাবে শক্ত কিছু দিয়ে ঘষে পরিষ্কার করার চেষ্টা করলে ত্বকের ক্ষতি বেড়ে পিগমেন্টেশন বা কালচে ছোপ আরও স্থায়ী হতে পারে।

সূর্যালোকের অসমান সংস্পর্শ এই সমস্যার অন্যতম প্রাথমিক কারণ। দৈনন্দিন রূপচর্চায় মুখের ত্বকে নিয়মিত সানস্ক্রিন ব্যবহার করা হলেও ঘাড়ের অংশটি প্রায়ই অবহেলিত থেকে যায়। সুরক্ষাহীন অবস্থায় বারবার অতিবেগুনি রশ্মির সংস্পর্শে আসার কারণে ঘাড়ের কোষে মেলানিন উৎপাদন বহুগুণ বেড়ে যায়। নিয়মিত মুখে সানস্ক্রিন মেখে চোয়ালের রেখায় থেমে যাওয়ার অভ্যাস মুখের সাথে ঘাড়ের ত্বকের রঙের পার্থক্য দিন দিন আরও প্রকট করে তোলে। পোশাক ও অলংকারের ধারাবাহিক ঘর্ষণ ত্বকে প্রদাহ ও কালচে দাগ সৃষ্টির আরেকটি বড় কারণ। শক্ত কলারের জামা, আঁটসাঁট স্কার্ফ, ধাতব গয়না কিংবা গোসলের সময় কড়া স্ক্রাব ও লুফার অতিরিক্ত ঘষাঘষিতে ত্বকে জ্বালাপোড়া তৈরি হয়। যাদের ত্বকে যেকোনো আঘাতের পর দাগ পড়ার প্রবণতা বেশি, তাদের ক্ষেত্রে ঘর্ষণের ফলে পিগমেন্টেশন দ্রুত বাড়ে।

ঘাড়ের ভাঁজে মৃত ত্বক, ঘাম, প্রাকৃতিক তেল ও প্রসাধন সামগ্রীর অবশিষ্টাংশ জমেও ত্বক কিছুটা অন্ধকার দেখায়। এটি দূর করতে অতিরিক্ত বল প্রয়োগে ঘষাঘষি করলে ত্বকের উপরিভাগ ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং সুরক্ষার প্রতিক্রিয়া হিসেবে ত্বক আরও কালচে বর্ণ ধারণ করে। ঘাড় কালো এবং অস্বাভাবিক পুরু হয়ে যাওয়ার একটি প্রধান কারণ হলো অ্যাকান্থোসিস নাইগ্রিকানস নামের একটি স্বাস্থ্যগত অবস্থা। আন্তর্জাতিক চিকিৎসা সাময়িকী ‍‍`ক্লিনিক্যাল, কসমেটিক অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশনাল ডার্মাটোলজি‍‍`-তে প্রকাশিত এক গবেষণা অনুযায়ী, এর প্রভাবে ঘাড়ের ত্বক অস্বাভাবিক পুরু, কালো ও মখমলের মতো মোলায়েম রূপ ধারণ করে। চিকিৎসাবিজ্ঞানীদের মতে, এই সমস্যাটি মূলত শরীরে ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স বা ডায়াবেটিসের পূর্বলক্ষণ হিসেবে দেখা দেয়। স্থূল বা অতিরিক্ত ওজনের মানুষের মধ্যে এটি বেশি দেখা গেলেও সাধারণ ওজনের মানুষের ক্ষেত্রেও অভ্যন্তরীণ কারণে সমস্যাটি দেখা দিতে পারে। ঘাড়ের ত্বক লক্ষণীয়ভাবে পুরু হয়ে গেলে সেটিকে সাধারণ প্রসাধন সংকট না ভেবে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি। হরমোনের ভারসাম্যহীনতাও ত্বকের স্বাভাবিক রঙের পরিবর্তন ঘটায়। বিশেষ করে গর্ভাবস্থায় শরীরে হরমোনের ব্যাপক পরিবর্তনের ফলে মেলানিনের উৎপাদন উদ্দীপিত হয়, যার প্রভাবে শরীরের বিভিন্ন অংশের সাথে ঘাড়ের পুরনো কালচে দাগগুলো আরও স্পষ্ট রূপ নেয়।

একজিমা বা কন্টাক্ট ডার্মাটাইটিসের মতো চর্মরোগের কারণে প্রদাহ কমে যাওয়ার পরও ত্বকে দীর্ঘমেয়াদি কালচে দাগ থেকে যায়। আন্তর্জাতিক গবেষণা সাময়িকী ‍‍`কিউরিয়াস জার্নাল অফ মেডিকেল সায়েন্স‍‍`-এর প্রতিবেদনে এটিকে পোস্ট-ইনফ্ল্যামেটরি হাইপারপিগমেন্টেশন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া নতুন কোনো সাবান, সুগন্ধি, চুলের প্রসাধন বা গলার হারের অ্যালার্জি থেকে ঘাড়ে হালকা প্রদাহ হয়ে রঙের পরিবর্তন ঘটতে পারে।

অনেক ক্ষেত্রে এই পার্থক্য কেবল শরীরের বিভিন্ন অংশে মেলানিনের প্রাকৃতিক বিন্যাস ও ত্বকের স্বাভাবিক ভিন্নতার কারণেই হয়ে থাকে।