রবিবার, ০৮ নভেম্বর, ২০২৬,
মধ্যপ্রাচ্য সংকট

যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় ইরানে আয়োডিন ট্যাবলেট বিতরণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

নভেম্বর ৮, ২০২৬, ০৩:৫৫ পিএম

যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় ইরানে আয়োডিন ট্যাবলেট বিতরণ

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন করে সামরিক হামলার আশঙ্কার মধ্যে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনার কাছাকাছি বসবাসকারী মানুষের মাঝে আয়োডিন ট্যাবলেট বিতরণ শুরু হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে আবার সামরিক অভিযান চালানোর বিষয়ে বিবেচনা করছেন—এমন বিভিন্ন খবরের প্রেক্ষাপটে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার বরাতে টাইমস অব ইন্ডিয়া জানিয়েছে, ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা আয়োডিন ট্যাবলেট বিতরণের এই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ওই কর্মকর্তা সংবাদমাধ্যমকে বলেন, হ্যাঁ, আমরা আয়োডিন বিতরণ করছি। তিনি আরও যোগ করেন যে ট্রাম্পকে আর বিশ্বাস করা যায় না এবং তিনি এ ধরনের হামলা চালাতে পারেন।

ওই কর্মকর্তা জানান, সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পেলে ইরান নিয়মিতভাবে তাদের পারমাণবিক স্থাপনার দুই থেকে তিন কিলোমিটারের মধ্যে বসবাসকারী সাধারণ মানুষদের প্রতিরোধমূলক ওষুধ হিসেবে এসব ট্যাবলেট সরবরাহ করে থাকে। পারমাণবিক দুর্ঘটনায় তেজস্ক্রিয় আয়োডিন ছড়িয়ে পড়লে তা যেন মানবদেহের থাইরয়েড গ্রন্থিতে জমা না হয়, সে জন্যই মূলত আয়োডিন ট্যাবলেট ব্যবহার করা হয়। তবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, এসব ট্যাবলেট বিতরণের অর্থ এই নয় যে শিগগিরই তেজস্ক্রিয়তা ছড়িয়ে পড়ার মতো কোনো মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটতে যাচ্ছে।

এদিকে ওয়াশিংটনে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানের এক রাজনৈতিক সাংবাদিক জানান, সম্প্রতি দেশটির কর্মকর্তাদের এক উচ্চপর্যায়ের ব্রিফিংয়ে জানানো হয়েছে যে অত্যন্ত সুরক্ষিত পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার বিষয়টি মার্কিন প্রশাসন গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে।

ফক্স নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বৃহস্পতিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার জাতীয় নিরাপত্তা দলের সঙ্গে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান আবার শুরু করা হবে কি না, সে বিষয়ে আলোচনা করেছেন। বুধবার ও বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসে এসব গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ফক্স নিউজ আরও উল্লেখ করেছে যে আগামী ৯ নভেম্বর মধ্যপ্রাচ্যে অমাবস্যা থাকবে, যার ফলে রাতের আকাশে চাঁদের আলো প্রায় থাকবে না। সামরিক অভিযানের ক্ষেত্রে এমন প্রাকৃতিক পরিস্থিতি সাধারণত সুবিধাজনক হতে পারে। তবে ওই নির্দিষ্ট দিনে কোনো হামলার পরিকল্পনা রয়েছে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

বৃহস্পতিবার ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ আবার শুরু করা হবে কি না, সে বিষয়ে খুব শীঘ্রই সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি বন্ধ করতে যুক্তরাষ্ট্রের আরও সামরিক হামলা চালানো উচিত কি না, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি। ট্রাম্প বলেন, সম্ভব হলে তিনি ইরানের বাকি অংশ ধ্বংস করতে চান না, তবে পরিস্থিতি বিবেচনায় হয়তো তাকে তা করতে হতে পারে।

এদিকে অপর এক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইরানের বিরুদ্ধে একটি বড় ধরনের সামরিক অভিযান আবার শুরু করার প্রস্তুতি চূড়ান্ত করছে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড। তবে অভিযান শুরুর আনুষ্ঠানিক বা চূড়ান্ত নির্দেশ এখনো প্রদান করা হয়নি।

এই সামরিক উত্তেজনার মধ্যেই গত বৃহস্পতিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী ফালেহ আল-জাইদি। এ সময় তিনি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, প্রতিবেশী কোনো দেশের ওপর সামরিক হামলা চালাতে ইরাকের ভূখণ্ড কোনোভাবেই ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না। ইরাকের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, প্রতিবেশী দেশগুলোর বিরুদ্ধে আগ্রাসনের ঘাঁটি হিসেবে দেশের মাটি ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না এবং সব দেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের আহ্বান জানানো হয়েছে। ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন সামরিক অভিযান শুরু হলে তা পুরো অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়তে পারে—এমন গভীর উদ্বেগের মধ্যেই ইরাক তাদের এই কঠোর অবস্থান আনুষ্ঠানিকভাবে জানাল।