সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬, ০৬:৩৫ পিএম
মাতৃত্বের দীর্ঘ বিরতি কাটিয়ে অভিনয়ে ফেরার আনন্দের পাশাপাশি এক কঠিন মানসিক অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছিলেন বলিউড অভিনেত্রী পরিণীতি চোপড়া। সন্তানকে বাড়িতে রেখে প্রথমবারের মতো শুটিংয়ের উদ্দেশে মুম্বাই যাওয়ার পুরো তিন ঘণ্টার বিমানযাত্রায় নিজেকে সামলাতে না পেরে একটানা কেঁদেছিলেন তিনি। সম্প্রতি নেটফ্লিক্সের নতুন ওয়েব ধারাবাহিক শক: ট্রাস্ট নো ওয়ানের প্রচার-ঝলক প্রকাশ অনুষ্ঠানে নিজের এই ব্যক্তিগত অনুভূতির কথা জানান অভিনেত্রী।
সন্তান জন্মের পর প্রথম কয়েক মাস দিন-রাত চব্বিশ ঘণ্টা তিনি ছেলের সঙ্গেই সময় কাটিয়েছিলেন বলে জানান পরিণীতি। সার্বক্ষণিক সন্তানকে কাছে রাখার পর হঠাৎ তাকে একা বাড়িতে রেখে দূরবর্তী শহরে পেশাগত কাজে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়াটা তার জন্য অত্যন্ত কঠিন হয়ে উঠেছিল। অভিনেত্রীর ভাষ্যমতে, মুম্বাই যাওয়ার সেই বিমানযাত্রার অধিকাংশ ঘটনাই তার স্মৃতিতে স্পষ্ট নেই। কীভাবে তিনি বিমানবন্দরে পৌঁছেছিলেন, কখন বিমানে আসন গ্রহণ করেছিলেন কিংবা কখন মুম্বাইয়ে অবতরণ করেছিলেন, তার কোনো কিছুই তিনি মনে করতে পারেন না।
শুধু মনে আছে, প্রায় তিন ঘণ্টার পুরো যাত্রাপথে তিনি অবিরাম কেঁদেছিলেন। এই গভীর মানসিক পরিস্থিতিকে কেবল মায়েদের সাধারণ অপরাধবোধ বা মম গিল্ট হিসেবে বিবেচনা করতে তিনি নারাজ। পরিণীতির ভাষায়, ওই সময় তার মনে হচ্ছিল তিনি হয়তো ভবিষ্যতে আর কখনোই অভিনয়ে ফিরতে পারবেন না কিংবা অন্য কোনো কাজই আর করতে পারবেন না। এটি সাধারণ অপরাধবোধের চেয়েও অনেক বেশি তীব্র ছিল এবং সন্তানকে ছেড়ে দূরে যাওয়ার মানসিক কষ্টটি তার কাছে শারীরিক ক্ষতের যন্ত্রণার মতোই অনুভূত হয়েছিল।
তবে বাস্তবিকভাবে সন্তানকে নিয়ে কোনো নিরাপত্তা শঙ্কা ছিল না বলেও নিশ্চিত করেছেন এই তারকা। সন্তান নিজের পরিবারের নিরাপদ আশ্রয়েই ছিল এবং আত্মীয়স্বজনের সার্বক্ষণিক তত্ত্বাবধানে ছিল। এমনকি কাজে ফেরার ব্যাপারে পরিবারের পক্ষ থেকে তাকে পূর্ণ সমর্থন ও উৎসাহ দেওয়া হয়েছিল। সবকিছু অনুকূলে থাকার পরও মায়ের ভেতরের বিচ্ছেদের তীব্র অনুভূতি তাকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে ফেলেছিল।
ভারতীয় রাজনীতিক রাঘব চাড্ডার সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার পর চলচ্চিত্রাঙ্গনে নিজের ব্যস্ততা অনেকটাই কমিয়ে এনেছিলেন পরিণীতি চোপড়া। পরবর্তীতে মাতৃত্বকালীন দায়িত্বের কারণে তিনি পেশাগত পর্দা থেকে আরও দীর্ঘ সময়ের জন্য দূরে থাকেন। এবার শক: ট্রাস্ট নো ওয়ান ধারাবাহিকের মাধ্যমে প্রায় চার বছর পর পুনরায় ক্যামেরার সামনে ফিরেছেন তিনি। এই প্রত্যাবর্তন তার কাছে কেবল পেশাগত জীবনের নতুন সূচনা নয়, বরং মাতৃত্ব ও কর্মজীবনের মধ্যে ভারসাম্য প্রতিষ্ঠার এক নিবিড় ব্যক্তিগত লড়াই।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন