রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

মুসলিম বিশ্বে পাকিস্তানের অবদানের প্রশংসা করলেন সিসি

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

অক্টোবর ২৫, ২০২৫, ০৮:২৪ পিএম

মুসলিম বিশ্বে পাকিস্তানের অবদানের প্রশংসা করলেন সিসি

ছবি - সংগৃহীত

মিশরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ এল-সিসি মুসলিম বিশ্বের প্রতি পাকিস্তানের সামগ্রিক অবদানকে ‘ইতিবাচক ও সক্রিয়’ হিসেবে অভিহিত করে ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। শনিবার (২৫ অক্টোবর) কায়রোর ঐতিহাসিক ইতিহাদিয়া রাষ্ট্রপতি প্রাসাদে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল সৈয়দ আসিম মুনিরের সঙ্গে এক আনুষ্ঠানিক বৈঠকে তিনি এই মন্তব্য করেন। দুই দেশের শীর্ষস্থানীয় এই দুই নেতার বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও গভীর করার ওপর জোর দেওয়া হয়।

পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) শনিবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বৈঠকটি অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। দুই নেতা পাকিস্তান ও মিশরের মধ্যে বিদ্যমান ঐতিহ্যবাহী বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে পুনর্ব্যক্ত করেন। একইসঙ্গে তারা অর্থনীতি, প্রযুক্তি, নিরাপত্তা ও সমাজ-সংস্কৃতিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা আরও গভীর ও জোরদার করার বিষয়ে অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

আইএসপিআর আরও জানায়, বৈঠকে নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং প্রতিরক্ষা খাতে পারস্পরিক অংশীদারিত্ব শক্তিশালী করার বিষয়ে উভয় পক্ষই প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়েছে।বৈঠকে ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে মিশরের নেতৃত্বের ভূমিকার উচ্চ প্রশংসা করেন। এর জবাবে প্রেসিডেন্ট সিসি বলেন, দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান কৌশলগত সমন্বয় বৃদ্ধি করা এবং জনগণের পর্যায়ে পারস্পরিক সম্পর্ক আরও গভীর করা এখন সময়ের প্রয়োজন।

পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির বর্তমানে মিশরে এক সরকারি সফরে রয়েছেন, যার মূল লক্ষ্য হলো দুই ভ্রাতৃপ্রতিম মুসলিম দেশের মধ্যে সামরিক ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বৃদ্ধি করা। এই সফরের অংশ হিসেবে তিনি এর আগে মিশরের প্রতিরক্ষামন্ত্রী জেনারেল আব্দুল মাগেদ সাকার এবং সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ খলিফা ফাতেহির সঙ্গেও পৃথক বৈঠকে মিলিত হন। এসব বৈঠকে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি, পারস্পরিক স্বার্থ এবং প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

সফরে আসিম মুনির কায়রোর বিশ্বখ্যাত আল-আজহার মসজিদের গ্র্যান্ড ইমাম শেখ আহমেদ এল তাইয়েবের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন। এ সময় তারা মুসলিম উম্মাহর বর্তমান চ্যালেঞ্জগুলো নিয়ে মতবিনিময় করেন। পাক সেনাপ্রধান ইসলামের বিকৃত ব্যাখ্যা প্রদানকারী এবং চরমপন্থী মতাদর্শ নির্মূল করার প্রয়োজনীয়তার ওপর বিশেষভাবে জোর দেন। সার্বিকভাবে, এই সফর পাকিস্তান ও মিশরের মধ্যকার কৌশলগত সম্পর্ককে আরও গভীর করার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।