ডিসেম্বর ৭, ২০২৫, ০৫:২৯ পিএম
কুমিল্লার দেবীদ্বারে গত বছরের ৪ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশ নিতে গিয়ে ভয়াবহ হামলার শিকার হন ১৬ বছরের মাদরাসা শিক্ষার্থী আবু বকর। একসময়ের প্রাণচঞ্চল ছেলেটি আজ নিজ বাড়িতে বাকহীন, নিথর-নিশ্চুপ ও অসহায় জীবন কাটাচ্ছে।
বর্তমানে আবু বকর দেবীদ্বার উপজেলার শাকতলা গ্রামের নিজ বাড়িতে চিকিৎসাধীন।গতকাল শনিবার আবু বকরকে দেখতে তার বাড়িতে গিয়েছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ।
আবু বকরকে এই অবস্থায় দেখে তিনি চোখের পানি ধরে রাখতে পারলেন না। তার সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে হাসনাত আব্দুল্লাহর চোখ ভিজে যায়।
একসময় কাঁদতে কাঁদতে আবু বকরকে জড়িয়ে ধরেন।এই সময় হাসনাত আব্দুল্লাহ আবু বকরকে বলেন, "তুমি যেকোনো সময়, শুধু এই নির্বাচন ইলেকশন না, যেকোনো সময় আমি যেমন ছিলাম আমাকে পাবা। তুমি আমার ভাই, আমার তো ভাই নাই। আজকে আমরা এইখানে আসছি তোমাদের জন্য। তোমাদের ওপর ভিত্তি করে আমরা দাঁড়ায় আছি। তোমাদের জন্য অনেক কিছু করার কথা ছিল আমরা পারিনি।"শনিবার (৬ ডিসেম্বর) সকাল থেকে অনুষ্ঠিত দেবীদ্বারের রাজামেহার ইউনিয়নে গণসংযোগ ও পথসভায় অংশ নিয়ে শহীদ পরিবারের সদস্যদের দেখেও আবেগে অশ্রুসিক্ত হন হাসনাত আব্দুল্লাহ।
এই গণসংযোগে স্থানীয় জনগণ ও শহীদপরিবারগুলো তাকে নির্বাচনী খরচের সহায়তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি জানায়।২০২৪ সালের ৪ আগস্ট ছোট আলমপুর থেকে দেবীদ্বার কলেজ রোড হয়ে নিউ মার্কেট স্বাধীনতা চত্বরের দিকে যাওয়া বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মিছিলে ছাত্রলীগ-যুবলীগের নেতাকর্মীরা সশস্ত্র হামলা চালায়। তখন মিছিলে থাকা আবু বকরকে বেশ কয়েকজন একসাথে ঘিরে ধরে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ও পিটিয়ে মৃত ভেবে ফেলে রেখে যায়।
মাথায় মারাত্মক আঘাতপ্রাপ্ত আবু বকরকে উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, পরে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ এবং সর্বশেষ ঢাকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্স হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তার মাথার খুলি খুলে রেখে একাধিকবার অপারেশন করা হয় এবং অবস্থা ক্রিটিক্যাল হওয়ায় দুইবার তাকে আইসিইউতে রাখা হয়। দীর্ঘদিন চিকিৎসা শেষে অবস্থার কিছু উন্নতি হওয়ায় চিকিৎসকরা বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন। এখন সে তার গ্রামের বাড়িতেই নিঃশব্দ জীবনের বন্দি।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন