মার্চ ১১, ২০২৬, ০১:০৯ পিএম
দীর্ঘ প্রায় তিন মাস কারাভোগের পর অবশেষে মুক্ত বাতাসে নিঃশ্বাস নিতে যাচ্ছেন দেশের জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও কলামিস্ট আনিস আলমগীর। বুধবার ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. সাব্বির ফয়েজ দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা মামলায় তার জামিন মঞ্জুর করেছেন। এর আগে গত ৫ মার্চ উচ্চ আদালত থেকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় তিনি জামিন পেয়েছিলেন।
দুই প্রধান মামলাতেই জামিন মেলায় তার জেল থেকে বের হতে এখন আর কোনো আইনি বাধা নেই বলে নিশ্চিত করেছেন তার আইনজীবী তাসলিমা জাহান পপি। নথিপত্র কারাগারে পৌঁছালে আজই তার মুক্তি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
আনিস আলমগীরের এই আইনি সংকটের শুরু হয় গত বছরের ১৪ ডিসেম্বর রাতে। ওইদিন ডিবি পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের কথা বলে তাকে তুলে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে ‘জুলাই রেভল্যুশনারি অ্যালায়েন্স’ নামক একটি সংগঠনের পক্ষ থেকে তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা নষ্ট এবং নিষিদ্ধ সংগঠনকে উসকে দেওয়ার অভিযোগে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করা হয়।
চাঞ্চল্যকর এই মামলায় তার সঙ্গে জনপ্রিয় অভিনেত্রী মেহের আফরোজ শাওনসহ আরও তিনজনকে আসামি করা হয়েছিল। পাঁচ দিনের রিমান্ড শেষে ২০ ডিসেম্বর থেকে তিনি টানা কেরানীগঞ্জের কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি ছিলেন।সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলার রেশ কাটতে না কাটতেই গত ১৫ জানুয়ারি অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে আনিস আলমগীরের বিরুদ্ধে নতুন মামলা করে দুদক। সংস্থাটির দাবি অনুযায়ী, তার ৩ কোটি ২৬ লাখ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ রয়েছে, যা তার মোট সম্পদের প্রায় ৭৭ শতাংশ।
তবে আনিস আলমগীরের পরিবারের পক্ষ থেকে এই অভিযোগ বরাবরই প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। তাদের দাবি, টেলিভিশন টকশো, কনসালটেন্সি, বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা এবং পৈতৃক জমি বিক্রির বৈধ আয় থেকেই এই সম্পদ অর্জিত হয়েছে। পরিবারের অভিযোগ ছিল, হয়রানি করতেই সম্পদের এই হিসাব সামনে আনা হয়েছে।
জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক আনিস আলমগীর দীর্ঘ কর্মজীবনে দৈনিক আজকের কাগজসহ দেশের বিভিন্ন প্রথম সারির সংবাদমাধ্যমে কাজ করেছেন। টেলিভিশন টকশো এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমসাময়িক রাজনীতি নিয়ে তার সোজাসাপ্টা ও বিশ্লেষণধর্মী বক্তব্যের জন্য তিনি সাধারণ পাঠকদের কাছে সমধিক পরিচিত। তার স্ত্রী শাহনাজ চৌধুরী শুরু থেকেই দাবি করে আসছিলেন যে, কোনো সুনির্দিষ্ট অপরাধ নয় বরং স্বাধীনভাবে মত প্রকাশের কারণেই তার স্বামীকে মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে জেলের ঘানি টানতে হয়েছে। অবশেষে উচ্চ আদালত ও নিম্ন আদালতের ধারাবাহিক আদেশে তার দীর্ঘ বন্দিদশার অবসান ঘটতে যাচ্ছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন