এপ্রিল ২৩, ২০২৬, ০৬:৫৫ পিএম
গ্রামের কৃষি খাতে সেচ কার্যক্রম নিরবচ্ছিন্ন রাখতে এখন থেকে রাজধানী ঢাকায় পরীক্ষামূলকভাবে লোডশেডিং করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বিদ্যুৎ উৎপাদনে চলমান ঘাটতি বিবেচনায় নিয়ে শহর ও গ্রামের মধ্যে বৈষম্য দূর করতে এই নতুন কৌশল গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে ৩০০ বিধিতে এক বিবৃতি দেওয়ার সময় তিনি এই তথ্য জনসমক্ষে আনেন। বর্তমান সেচ মৌসুমে কৃষকদের পানির চাহিদা নিশ্চিত করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে দেশের গ্রামীণ এলাকার কৃষকরা যেন লোডশেডিংয়ের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত না হন এবং তারা যেন পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ সুবিধা পান, সেটিই এই সিদ্ধান্তের প্রধান উদ্দেশ্য। প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন যে বর্তমানে দেশে প্রতিদিন গ্যাসের মোট চাহিদা প্রায় ৩ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট হলেও সরবরাহ নিশ্চিত করা যাচ্ছে মাত্র ২ হাজার ৬৩৬ মিলিয়ন ঘনফুট।
এই বিশাল গ্যাস ঘাটতির কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদনে বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে। অবকাঠামোগত কিছু সীমাবদ্ধতা থাকায় রাতারাতি গ্যাস আমদানি বাড়ানো সম্ভব হচ্ছে না। তবে তিনি আশ্বাস দেন যে আগামী ১৮০ দিনের মধ্যে গ্যাস খাতের এই পরিস্থিতিতে দৃশ্যমান অগ্রগতি আসবে।দেশের বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে প্রতিমন্ত্রী আরও জানান যে একটি আমদানিনির্ভর এবং একটি কয়লাভিত্তিক বড় বিদ্যুৎকেন্দ্র বর্তমানে যান্ত্রিক রক্ষণাবেক্ষণের কারণে বন্ধ রয়েছে।
বড় এই দুটি প্ল্যান্ট উৎপাদনে না থাকায় জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের ক্ষেত্রে কিছুটা টানাপোড়েন সৃষ্টি হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আশা করছেন যে বন্ধ থাকা এই কেন্দ্রগুলো আগামী সাত দিনের মধ্যে পুনরায় চালু হবে এবং তখন বিদ্যুৎ পরিস্থিতি অনেকটা স্বাভাবিক ও সহনীয় পর্যায়ে ফিরে আসবে। সাময়িক এই বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও জনভোগান্তির জন্য সরকারের পক্ষ থেকে দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি জানান যে পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বিভাগ সমন্বিতভাবে কাজ করে যাচ্ছে এবং অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সেচ পাম্পগুলোতে বিদ্যুৎ সরবরাহ অব্যাহত রাখা হবে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন