রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,
প্রবাসীদের বিনিয়োগ আহ্বান

প্রবাসী বিনিয়োগে দেশে মেধা ফেরানোর ডাক জবিউল্লাহর

জাতীয় ডেস্ক

সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬, ১১:৪৮ এএম

প্রবাসী বিনিয়োগে দেশে মেধা ফেরানোর ডাক জবিউল্লাহর

এখন থেকে আর মেধা পাচার নয়, বরং মেধা দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন উপদেষ্টা ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ। শনিবার মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি মালয়েশিয়ার ব্যবসায়ী, প্রবাসী উদ্যোক্তা ও নতুন বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানান। মালয়েশিয়া বিএনপি ও এর বিভিন্ন অঙ্গ-সহযোগী সংগঠন যৌথভাবে এই সভার আয়োজন করে।

মেধা পাচার বন্ধ করে দেশে মেধা আকর্ষণের লক্ষ্য সরকারের। উপদেষ্টা জানান, বিএনপি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে সরকার গঠনের পর নির্বাচনী ইশতেহারের আলোকে দেশ পুনর্গঠন ও অর্থনৈতিক সংস্কার শুরু করেছে। ধারাবাহিক নীতি এবং নিয়ন্ত্রণমুক্ত পরিবেশ তৈরির মাধ্যমে দেশে অনুকূল বিনিয়োগ পরিবেশ নিশ্চিত করা হয়েছে। সরকারের অগ্রাধিকারের মধ্যে রয়েছে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ ও অর্থনীতির ভিত মজবুত করা।

মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত শক্তিশালী বাংলাদেশি ব্যবসায়ী সমাজ ও তরুণ উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগ সম্প্রসারণে সব ধরনের প্রশাসনিক সহায়তা দেওয়া হবে বলে আশ্বস্ত করেন তিনি। সে দেশে প্রায় ১৫ লাখের বেশি প্রবাসী কর্মরত রয়েছেন। তাদের মধ্যে সাধারণ শ্রমিকদের পাশাপাশি শিক্ষাবিদ, গবেষক, চিকিৎসক, তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ, প্রকৌশলী ও উদ্যোক্তারা রয়েছেন। তাদের অভিজ্ঞতা ও জ্ঞান দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে বড় ভূমিকা রাখতে পারে উল্লেখ করে তিনি বিশেষজ্ঞদের দেশে ফেরার আহ্বান জানান।

জনশক্তি রপ্তানির প্রেক্ষাপট স্মরণ করে তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাত ধরে মধ্যপ্রাচ্যে দক্ষ জনশক্তি পাঠানোর মাধ্যমে এই খাতের সূচনা হয়েছিল। বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে এক কোটিরও বেশি প্রবাসী কাজ করছেন। তাদের পাঠানো রেমিট্যান্স দেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি। এই অবদান ও ত্যাগের যথাযথ মূল্যায়ন এবং কল্যাণ নিশ্চিত করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।

উপদেষ্টা জানান, নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী প্রবাসীদের ভোটাধিকার কার্যকর করাসহ নানামুখী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগে আগামী ২০২৬ সালের জুলাই মাসে প্রবাসী কার্ডের পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু হবে। পাশাপাশি বিমানবন্দরে হয়রানি বন্ধ করে দ্রুত চেক-ইন, অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বোর্ডিং ও বিমানবন্দর বলাকা লাউঞ্জ ব্যবহারের নীতিগত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।

প্রবাসীদের আবাসন ও বিনিয়োগের সুবিধার্থে সিলেট থেকে পৃথক আবাসন প্রকল্প শুরু করে পরে দেশজুড়ে তা সম্প্রসারণ করা হবে। আগামী ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তরের রূপরেখা ঘোষণা করা হয়েছে। এই লক্ষ্য অর্জনে প্রবাসীদের মূলধন ও জ্ঞান অপরিহার্য বলে তিনি উল্লেখ করেন।

মতবিনিময় সভায় অংশ নিয়ে মালয়েশিয়ায় কর্মরত শিক্ষক, গবেষক, চিকিৎসক, নারী উদ্যোক্তা ও বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা প্রবাসীদের বিভিন্ন জটিলতার কথা তুলে ধরেন। তারা বাংলাদেশি কর্মীদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ, চাকরির নিশ্চয়তা, পাসপোর্ট জটিলতা ও কনস্যুলার সেবা সহজ করার দাবি জানান। বক্তারা বলেন, রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের সমস্যা দ্রুত নিরসনে সরকারি দপ্তরগুলোর মধ্যে কার্যকর সমন্বয় ও সরাসরি যোগাযোগ দরকার। সভায় উপস্থিত প্রতিনিধিরা জাতীয় স্বার্থে এবং দেশের অগ্রগতিতে সম্মিলিতভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন মালয়েশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মঞ্জুরুল করিম খান চৌধুরী, মালয়েশিয়া বিএনপির সভাপতি প্রকৌশলী বাদলুর রহমান বাদল, সিনিয়র সহসভাপতি মাহবুব আলম শাহ ও সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ হোসেন। এছাড়া দূতাবাসের কর্মকর্তা, শিক্ষক, ছাত্র প্রতিনিধি ও বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।