রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

সাড়ে ১৩ হাজার কোটি টাকার ১৪ প্রকল্প অনুমোদন

জাতীয় ডেস্ক

এপ্রিল ২৬, ২০২৬, ০৬:১৮ পিএম

সাড়ে ১৩ হাজার কোটি টাকার ১৪ প্রকল্প অনুমোদন

একনেক বৈঠক

জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) সভায় মোট ১৩ হাজার ৪৪৫ কোটি ৪১ লাখ টাকা ব্যয়ে ১৪টি গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। রোববার সকালে বাংলাদেশ সচিবালয়ে বর্তমান সরকারের দ্বিতীয় এবং চলতি অর্থবছরের দশম এই একনেক সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন তারেক রহমান। 

সভায় অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক শেষে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এসব তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

প্রকল্পগুলোর অর্থায়নের চিত্র বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, মোট ব্যয়ের মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে ৮ হাজার ৮৯ কোটি ৫৬ লাখ টাকা এবং বৈদেশিক ঋণ হিসেবে ৫ হাজার ৩৪০ কোটি ২৬ লাখ টাকা খরচ করা হবে। এছাড়া সংশ্লিষ্ট সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন থাকবে ১৫ কোটি ৫৯ লাখ টাকা।

 অনুমোদনের জন্য তালিকায় ১৭টি প্রকল্প থাকলেও দীর্ঘ পর্যালোচনার পর ১৪টি প্রকল্প চূড়ান্তভাবে পাস করা হয়। এর মধ্যে ৫টি নতুন প্রকল্প, ৫টি সংশোধিত এবং ৪টি প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। তবে বড় অঙ্কের এই অনুমোদনের চেয়েও সভায় গুরুত্ব পেয়েছে প্রকল্পের দীর্ঘসূত্রতা ও বারবার মেয়াদ বৃদ্ধির বিষয়টি।একনেক সূত্রে জানা গেছে, বিশেষ করে সড়ক খাতের কয়েকটি প্রকল্পের ধীরগতি ও বারবার সময় বাড়ানোর ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। বরিশাল ও পটুয়াখালী অঞ্চলের সড়ক উন্নয়ন এবং সেতু নির্মাণ সংক্রান্ত তিনটি প্রকল্পে পাঁচবার পর্যন্ত মেয়াদ বৃদ্ধি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

 কেন এই দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হলো এবং এর পেছনে কী কী কারণ রয়েছে— তা খতিয়ে দেখতে মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে প্রধান করে একটি উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উন্নয়ন প্রকল্পের টাকা ও সময়ের সঠিক ব্যবহারের ওপর কঠোর গুরুত্বারোপ করেছেন।অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের নগর জনগোষ্ঠীর সমন্বিত স্বাস্থ্যসেবা প্রকল্প এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাস্টমস আধুনিকায়ন ও অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। 

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের পিপিআর ও ক্ষুরারোগ নিয়ন্ত্রণ প্রকল্প এবং স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের আওতায় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্ন কর্মীদের আবাসন ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের অবকাঠামো উন্নয়নের সংশোধিত প্রকল্পগুলো পাস হয়েছে। এছাড়া ঢাকা শহরে জরুরি পানি সরবরাহ নিশ্চিত করার একটি প্রকল্পও সবুজ সংকেত পেয়েছে।সড়ক ও সেতু খাতের প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে ময়মনসিংহ বিভাগে পাঁচটি জলবায়ু সহনশীল সেতু নির্মাণ এবং পার্বত্য জেলা রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানে সীমান্ত সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়। 

বরিশালের বৈরাগীরপুল-বাউফল মহাসড়ক প্রশস্তকরণ এবং রাঙামাটি নদীর ওপর গোমা সেতু নির্মাণ প্রকল্পের সংশোধনীও অনুমোদিত হয়েছে। অন্যদিকে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের অধীনে পশ্চিমাঞ্চলের রেলপথ রক্ষণাবেক্ষণ এবং মধুখালী-মাগুরা ব্রডগেজ রেলপথ নির্মাণ সংক্রান্ত প্রকল্পগুলো দেশের যাতায়াত ব্যবস্থায় নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রকল্পের সঠিক বাস্তবায়ন নিশ্চিতে তদারকি বাড়ানোর জন্য সভায় বিশেষ নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।