এপ্রিল ৩০, ২০২৬, ০৯:৩৩ এএম
বাংলাদেশ পুলিশে উপপরিদর্শক (এসআই) পদে সরাসরি চার হাজার সদস্য নিয়োগের সিদ্ধান্তে পদোন্নতির ক্ষেত্রে নিজেদের `কপাল পোড়ার` শঙ্কা দেখছেন সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) ও কনস্টেবলরা। সরাসরি এই নিয়োগ কার্যক্রম বাস্তবায়িত হলে পদ শূন্য না থাকায় পদোন্নতি ব্যাহত হবে বলে মনে করছেন বাহিনীর অধস্তন সদস্যরা। এই নিয়ে কনস্টেবল থেকে এএসআই পর্যন্ত সদস্যদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা তৈরি হয়েছে।
পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি সরকারের মৌখিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পুলিশ বাহিনীতে সরাসরি চার হাজার এসআই নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়। চলতি মাসের শুরুর দিকে পুলিশের পলিসি গ্রুপের বৈঠকে সরাসরি এই নিয়োগের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়।
পুলিশ রেগুলেশন-১৯৪৩ (পিআরবি) এর ৭৪১ (খ) ধারা অনুযায়ী, এসআই পদের মোট শূন্য পদের ৫০ শতাংশ সরাসরি নিয়োগ এবং বাকি ৫০ শতাংশ বিভাগীয় পদোন্নতির মাধ্যমে পূরণের বিধান রয়েছে। তবে এই চার হাজার এসআই নিয়োগের জন্য বিদ্যমান পিআরবি ধারা পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
পুলিশের সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তাদের মতে, বড় পরিসরে সরাসরি নিয়োগ বাহিনীর সাংগঠনিক কাঠামোর ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে। গত ৬ এপ্রিল পুলিশ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত পলিসি গ্রুপের সভায় অর্গানাইজেশন অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট শাখার অতিরিক্ত ডিআইজি মাহবুবুল করিম সভায় অবহিত করেন, ক্যাডার ও অধস্তন সব পদে যৌক্তিক হারে পদ সৃষ্টি না করে শুধু এন্ট্রি লেভেলে সরাসরি নিয়োগ দিলে ভবিষ্যতে পদোন্নতির ক্ষেত্রে জটিলতা সৃষ্টি হবে।সাবেক আইজিপি মুহাম্মদ নুরুল হুদা এ বিষয়ে জানান, সরাসরি নিয়োগের পাশাপাশি বিভাগীয় পদোন্নতির মাধ্যমেও পদ পূরণ করা উচিত।
তবে এই নিয়োগ যদি পদের সঠিক হিসাব করে দেওয়া হয়, তবে হয়তো প্রভাব পড়বে না। কিন্তু নিয়ম না মেনে ঢালাও নিয়োগ দিলে যোগ্য সদস্যদের পদোন্নতি আটকে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।অতিরিক্ত ডিআইজি (অর্গানাইজেশন অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট) মাহবুবুল করিম জানান, সরকারের সিদ্ধান্তের পর চার হাজার এসআই নিয়োগের প্রস্তাবটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। মন্ত্রণালয় থেকে অনুমোদনের পর সেটি এখন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে রয়েছে। তবে বিভাগীয় পদোন্নতি প্রত্যাশীরা দাবি করছেন, সরাসরি নিয়োগের ফলে পদ পূরণ হয়ে গেলে তাদের বছরের পর বছর অপেক্ষা করতে হবে।
পুলিশের অভ্যন্তরীণ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বর্তমানে বাহিনীতে এএসআই (নিরস্ত্র) পদের সংখ্যা ২২ হাজার ৭৩৮টি এবং কনস্টেবল রয়েছেন ১ লাখ ৩০ হাজারের বেশি। প্রতি বছর এসআই পদে পদোন্নতির জন্য প্রায় ১২ হাজার এএসআই পরীক্ষায় অংশ নেন। পদোন্নতি পরীক্ষার নিয়ম অনুযায়ী, এমসিকিউ, লিখিত এবং ভাইভা পরীক্ষায় পাস করতে হয়। পাসের মেয়াদ থাকে মাত্র এক বছর। যদি এক বছরের মধ্যে পদ শূন্য না থাকে, তবে প্রার্থীদের আবারও পরীক্ষা দিতে হয়।
ঢাকা মহানগর পুলিশ ও সিআইডিতে কর্মরত কয়েকজন এএসআই জানান, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ১৫ থেকে ১৬ ঘণ্টা দায়িত্ব পালন করে তাদের পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে হয়। পদের অভাবে পরীক্ষা পাস করার পরও তারা বছরের পর বছর পদোন্নতি পান না। এর ওপর সরাসরি চার হাজার নিয়োগ তাদের দীর্ঘদিনের স্বপ্নকে অনিশ্চয়তার মুখে ফেলে দিয়েছে।অবশ্য পুলিশ সদর দপ্তরের মুখপাত্র এ এইচ এম শাহাদাত হোসাইন বিষয়টিকে ভিন্নভাবে দেখছেন। তিনি জানান, সরাসরি নিয়োগের এই উদ্যোগ বাহিনীর সক্ষমতা ও জনসেবা বৃদ্ধির অংশ। নিয়মিত পদোন্নতির সুযোগ কমে যাওয়ার আশঙ্কার কারণ নেই এবং দুটি প্রক্রিয়াই সমন্বিতভাবে পরিচালিত হবে বলে তিনি দাবি করেন।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন