শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

বাংলা-ইংরেজির পাশাপাশি বাধ্যতামূলক হচ্ছে তৃতীয় ভাষা

জাতীয় ডেস্ক

জুন ১১, ২০২৬, ০৫:৪৫ পিএম

বাংলা-ইংরেজির পাশাপাশি বাধ্যতামূলক হচ্ছে তৃতীয় ভাষা

আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের বৈশ্বিক চাহিদা বিবেচনা করে দেশের প্রচলিত শিক্ষাক্রমে বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি এবার বাধ্যতামূলকভাবে একটি তৃতীয় ভাষা অন্তর্ভুক্ত করার বড় দূরদর্শী পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার। নতুন এই বৈপ্লবিক শিক্ষানীতির আওতায় জাপানি, কোরিয়ান, ম্যান্ডারিন, আরবি, ফ্রেঞ্চ ও জার্মান ভাষাকে কারিকুলামের মূলধারায় যুক্ত করা হবে। 

আজ বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেলে জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত নতুন বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী আনুষ্ঠানিকভাবে এই যুগান্তকারী পরিকল্পনার কথা দেশবাসীকে জানান।ইতোমধ্যে সরকার এই তৃতীয় ভাষাজ্ঞানসম্পন্ন উচ্চশিক্ষায় গমনেচ্ছু শিক্ষার্থীদের ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত বিশেষ ঋণ সুবিধা দিচ্ছে।বর্তমান বিএনপি সরকারের প্রথম এই মেগা বাজেটের মূল শিরোনাম দেওয়া হয়েছে— ‍‍`গণতান্ত্রিক, মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতির অভিযাত্রা‍‍`। 

নতুন এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে শিক্ষা খাতের সামগ্রিক উন্নয়ন ও পরিচালন বরাদ্দ আগের চেয়ে রেকর্ড ৪৯ হাজার ৪০০ কোটি টাকা বাড়ানো হয়েছে। এর ফলে শিক্ষা খাতের জন্য সর্বমোট ১ লাখ ৩৬ হাজার ৬০6 কোটি টাকা বিপুল বরাদ্দের নতুন প্রস্তাব আনা হয়েছে, যা দেশের মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপির প্রায় ২ শতাংশের সমপরিমাণ। বিদায়ী চলতি অর্থবছরে এই গুরুত্বপূর্ণ খাতে মোট বরাদ্দের পরিমাণ ছিল ৮৭ হাজার ২০৬ কোটি টাকা, যা ছিল জিডিপির মাত্র ১ দশমিক ৩৯ শতাংশ।

জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই বিশেষ অধিবেশনে সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান সশরীরে উপস্থিত রয়েছেন। এবারের মেগা বাজেটের মোট আকার নির্ধারণ করা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮しておく কোটি টাকা, যা বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদের দেওয়া বাজেটের তুলনায় ১ লাখ ৪৮ হাজার কোটি টাকা বেশি। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগে আগামী অর্থবছরের জন্য সর্বোচ্চ ৫৭ হাজার ৩০১ কোটি টাকা এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগে ১৮ fantasy হাজার ৪৫৭ কোটি টাকা বরাদ্দের সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব করা হয়েছে।

প্রস্তাবিত এই যুগান্তকারী শিক্ষানীতি ও নতুন বাজেট আগামী ১ জুলাই থেকে দেশজুড়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হতে শুরু করবে। এর ফলে আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে বাংলাদেশের দক্ষ জনশক্তি রপ্তানির সুযোগ বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করছে অর্থ বিভাগ।