শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

৩৫ বছর পর দেশে আবারও ভোটের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া

জাতীয় ডেস্ক

আগস্ট ১১, ২০২৬, ১০:৩৩ এএম

৩৫ বছর পর দেশে আবারও ভোটের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া

ছবি : সংগৃহীত

সংসদীয় ব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তনের পর দীর্ঘ পঁয়ত্রিশ বছর বা সাড়ে তিন দশক বিরতির পর আবারও ভোটের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ঐতিহাসিক প্রক্রিয়ায় প্রবেশ করছে বাংলাদেশ। এর আগে ১৯৯১ সালে দেশের ইতিহাসে প্রথমবার সংসদ সদস্যদের প্রত্যক্ষ ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সেবার বিএনপির প্রার্থী আবদুর রহমান বিশ্বাস তৎকালীন আওয়ামী লীগের প্রার্থী বদরুল হায়দার চৌধুরীকে পরাজিত করে ১৭২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছিলেন।পঞ্চম জাতীয় সংসদের সেই নির্বাচনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণ এবং বয়কটের নানান সমীকরণ দেখা গিয়েছিল।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে আবারও সেই ভোটের দৃশ্যপট ফিরে আসছে। তবে সাধারণ জনগণের সরাসরি ভোটে নয়, সংসদ সদস্যদের পরোক্ষ ভোটেই নির্ধারিত হবে দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপ্রধান। তিনশো পঞ্চাশ আসনের এই সংসদে বর্তমানে স্বতন্ত্র সদস্যসহ মোট দশটি রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিত্ব রয়েছে। এর মধ্যে বিএনপির দুই-তৃতীয়াংশের বেশি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় তাদের মনোনীত প্রার্থীর বিজয়ী হওয়া প্রায় নিশ্চিত বলেই রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যে রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের প্রস্তুতি শুরু করেছে। ১১ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে কর্নেল (অব.) অলি আহমদকে প্রার্থী করা হয়েছে এবং তার পক্ষে ইতিমধ্যে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে। অন্যদিকে মূল ক্ষমতার দাবিদার দল হিসেবে বিএনপিও নির্বাচন কমিশন থেকে তাদের দলীয় প্রার্থীর জন্য ফরম সংগ্রহ করেছে। তবে ক্ষমতাসীন দলটির পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হয়নি।

সংসদের দলীয় আসনবিন্যাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যে বিএনপির হাতে ২৪৭টি আসন এবং জামায়াতে ইসলামীর হাতে ৭৭টি আসন রয়েছে। এছাড়া জাতীয় নাগরিক পার্টি বা এনসিপির ৮টি এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের ৩টি আসনসহ অন্যান্য দলের কিছু প্রতিনিধি সংসদে আছেন। সব মিলিয়ে আটজন স্বতন্ত্র সদস্যও এই নির্বাচনে ভোট দেবেন।দীর্ঘ তিন দশক পর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দেশের তেইশতম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন।