সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬, ১১:২৯ এএম
আজ ৩০ সেপ্টেম্বর, জাতীয় কন্যাশিশু দিবস। দেশের শিক্ষাক্ষেত্রে কন্যাশিশুদের সামগ্রিক অবস্থান পর্যালোচনা করলে প্রাথমিক স্তরে অর্জিত সাফল্যের পাশাপাশি মাধ্যমিক পর্যায়ে এসে তাদের আশঙ্কাজনক হারে ঝরে পড়ার এক গভীর সংকটময় বাস্তবতার চিত্র ফুটে উঠছে। সরকারের বহুমুখী সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি ও নিয়মিত উপবৃত্তি বিতরণের কারণে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে কন্যাশিশুদের বিদ্যালয়ে ভর্তির হার দৃশ্যমানভাবে বেড়েছে। প্রাথমিক শিক্ষায় ছেলে ও মেয়েদের অংশগ্রহণে প্রায় পূর্ণ সমতা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে। তবে প্রাথমিকের স্তর পার হয়ে মাধ্যমিক পর্যায়ে পদার্পণ করার পর অনেক কন্যাশিশুই আর নিজেদের স্বাভাবিক শিক্ষাজীবন অব্যাহত রাখতে পারছে না।
প্রাথমিকের অর্জনের বিপরীতে মাধ্যমিকে তৈরি হয়েছে বিপরীত চিত্র। বাংলাদেশ শিক্ষাতথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরো এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের হালনাগাদ উপাত্ত বিশ্লেষণে দেখা যায়, মাধ্যমিক পর্যায়ে ছাত্রদের ঝরে পড়ার হার প্রায় ৩০ দশমিক ৬৩ শতাংশ। কিন্তু নারী শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে এই হার আরও অনেক বেশি, যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩৪ দশমিক ৮৭ শতাংশে। অর্থাৎ প্রাথমিক শিক্ষায় অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রে মেয়েরা তুলনামূলক ইতিবাচক অবস্থানে থাকলেও মাধ্যমিকে গিয়ে তাদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ পাঠক্রম থেকে চিরতরে ছিটকে পড়ছে।
শিক্ষাঙ্গন থেকে মেয়েদের এভাবে হারিয়ে যাওয়ার প্রধান কারণ হিসেবে উঠে এসেছে বাল্যবিবাহের অভিশাপ। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর জরিপের তথ্যমতে, ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৭১ শতাংশ কন্যাশিশু কেবল বাল্যবিবাহের কারণে পড়াশোনা থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ফলে শুধু নতুন শিক্ষাবর্ষে বিদ্যালয়ে ছাত্রীদের ভর্তি নিশ্চিত করাই যথেষ্ট নয়, বরং তাদের আনুষ্ঠানিক শিক্ষাজীবন অব্যাহত রাখা এবং বাল্যবিবাহের ঝুঁকি থেকে তাদের প্রাতিষ্ঠানিক সুরক্ষা দেওয়া এখন রাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব হয়ে দাঁড়িয়েছে।
কন্যাশিশুর শিক্ষা কেবল একটি শিশুর ব্যক্তিগত ভবিষ্যতের ওপর প্রভাব ফেলে না, বরং একটি সমগ্র পরিবার, সমাজ ও গোটা দেশের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। তাই কন্যাশিশুদের শ্রেণিকক্ষে আনার পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তাদের ধরে রাখা, নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং বাল্যবিবাহের ঝুঁকি থেকে তাদের সুরক্ষা দেওয়াকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন