বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,
একনেকে মেঘা প্রকল্প

মুছাপুর রেগুলেটর নির্মাণে ৭৫১ কোটি টাকার প্রকল্প

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬, ১১:৪৪ এএম

মুছাপুর রেগুলেটর নির্মাণে ৭৫১ কোটি টাকার প্রকল্প

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে ভেঙে যাওয়া মুছাপুর রেগুলেটর পুনর্নির্মাণসহ ছোট ফেনী ও বামনী নদীর অববাহিকায় সমন্বিত বন্যা ও নদী ব্যবস্থাপনা এবং পানি নিষ্কাশনব্যবস্থার উন্নয়নে ৭৫১ কোটি ৭৭ লাখ টাকা ব্যয়ের একটি মেগা প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি বা একনেক। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিসভা কক্ষে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় এই গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন সরকারপ্রধান ও একনেক চেয়ারপারসন তারেক রহমান। এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে নোয়াখালীর উপকূলীয় জনপদের দীর্ঘদিনের দাবি ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণের পথ সুগম হলো।

উপকূলীয় নোয়াখালীতে নতুন নদী রক্ষা বাঁধের যাত্রা শুরু হচ্ছে। প্রকল্পটির অনুমোদনের খবরে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি ও সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ আনন্দ প্রকাশ করেছেন এবং সংশ্লিষ্টদের প্রতি ধন্যবাদ জানিয়েছেন। নোয়াখালী জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য মো. গোলাম মোমিত ফয়সাল জানান, প্রকল্পের মাঠপর্যায়ের কাজ দ্রুত শুরু ও যথাযথ মান বজায় রেখে বাস্তবায়ন করা গেলে উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি স্থায়ীভাবে দূর হবে। তিনি উল্লেখ করেন, এই কার্যক্রমের মাধ্যমে তীব্র নদীভাঙন ও বন্যার ঝুঁকি কমে আসবে এবং একই সাথে স্থানীয় কৃষি, মৎস্য সম্পদ ও অভ্যন্তরীণ যোগাযোগব্যবস্থার বৈপ্লবিক উন্নয়ন ঘটবে। উপকূলীয় এলাকার জনসাধারণের জীবনযাত্রার সামগ্রিক মান ও নিরাপত্তায় এই প্রকল্প সরাসরি ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

২০২৪ সালের ২৬ আগস্ট ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জের মুছাপুরে অবস্থিত ২৩ ভেন্টের রেগুলেটরটি পানির তীব্র চাপে বিধ্বস্ত হয়েছিল। তৎকালীন সময়ে টানা ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা আকস্মিক পাহাড়ি ঢলের তোড়ে গুরুত্বপূর্ণ রেগুলেটরটি সম্পূর্ণরূপে ভেঙে নদীগর্ভে তলিয়ে যায়। এর ফলে ছোট ফেনী নদী ও তার পার্শ্ববর্তী বিস্তীর্ণ জনপদে নদীভাঙন, জলোচ্ছ্বাস, অকাল বন্যা ও দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতার মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি হয়। কৃষি জমি লবণাক্ত পানির ঝুঁকিতে পড়ার পাশাপাশি স্থানীয় মানুষ চরম নিরাপত্তাহীনতায় পড়েন। সেই ভয়াবহ বিপর্যয়ের পর থেকেই রেগুলেটরটি পুনর্নির্মাণ এবং নদী শাসন ও পানি নিষ্কাশন অবকাঠামো আধুনিকায়নে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রকল্প গ্রহণের দাবি ওঠে। সার্বিক বাস্তবতা ও কারিগরি সমীক্ষা শেষ করে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি এই মেগা বরাদ্দের অনুমোদন দিল।