সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬, ১১:২৩ এএম
মাদক কারবারি, সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের কোনো প্রকার দলীয় পরিচয় বিবেচনা না করে কঠোরভাবে আইনের আওতায় আনার নির্দেশ দিয়েছেন বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক মো. আলী হোসেন ফকির। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকালে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে আয়োজিত আগস্ট মাসের মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় মাঠ পর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তাদের প্রতি তিনি এই নির্দেশনা দেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, কোনো অপরাধের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক বা দলীয় পরিচয় বিবেচনার সুযোগ নেই এবং অপরাধীর একমাত্র পরিচয় সে অপরাধী। একই সাথে কিশোর অপরাধীদের বিরুদ্ধেও আইন অনুযায়ী যথাযথ কঠোর ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে মাঠ পর্যায়ের দায়িত্বশীলদের প্রতি তাগিদ দেন তিনি।
অপরাধ দমনে কোনো প্রকার রাজনৈতিক ছাড় দেবে না পুলিশ। মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের জিরো টলারেন্স অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে পুলিশ প্রধান জানান, সর্বনাশা মাদক প্রতিরোধে সর্বাত্মক প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ নিতে হবে। এই সামাজিক ব্যাধি নির্মূলে কমিউনিটি পুলিশিং ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে সর্বস্তরের সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের আসন্ন দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও নির্বিঘ্নে উদযাপনে দেশজুড়ে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয় তৈরির নির্দেশ দেন আইজিপি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম কিংবা অন্য কোনো মাধ্যমে গুজব ছড়িয়ে যাতে কেউ কোনো ধরনের অপপ্রচার বা অস্থিতিশীলতা তৈরি করতে না পারে, সেজন্য সংশ্লিষ্ট সব ইউনিটকে আগে থেকেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন তিনি।
অপরাধীদের নেপথ্যের প্রভাবশালী পৃষ্ঠপোষকদের চিহ্নিত করার ওপর জোর দেন কর্মকর্তারা। সভায় সভাপতিত্ব করেন অপরাধ ও অভিযান শাখার অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক মো. সায়েদুর রহমান। তিনি কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়ে বলেন, কিশোর গ্যাং সদস্যদের বিষয়ে নিখুঁত গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করতে হবে এবং তাদের পেছনে কোনো রাজনৈতিক বা প্রভাবশালী মহলের আশ্রয়-প্রশ্রয় রয়েছে কি না, তা খুঁজে বের করে দ্রুত আইনের মুখোমুখি করতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে প্রতিটি ইউনিটকে নিজস্ব বাস্তবতার ভিত্তিতে আলাদা নিরাপত্তা পরিকল্পনা প্রণয়ন করতে হবে। পূজা চলাকালে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানা অপপ্রচার চালানো হতে পারে জানিয়ে মাঠ পর্যায়ের পুলিশ সদস্যদের সতর্ক ও সজাগ থাকার পরামর্শ দেন তিনি। দায়িত্ব পালনকালে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে মাঠের পুলিশ সদস্যদের বডিওর্ন ক্যামেরা যথাযথভাবে ব্যবহারের নির্দেশ দেন অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক।
আইনশৃঙ্খলা সুসংহত রাখা ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণে তিনি কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রমকে কার্যকরভাবে কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন। দায়িত্ব পালনের প্রতিটি ক্ষেত্রে চরম পেশাদারিত্ব বজায় রাখতে তিনি পুলিশ সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানান। পর্যালোচনা সভায় আগস্ট মাসের সার্বিক অপরাধ পরিস্থিতির পাশাপাশি ডাকাতি, দস্যুতা, হত্যাকাণ্ড, ধর্ষণ, দায়িত্ব পালনকালে পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলার ঘটনা ও অপহরণ মামলার বিস্তারিত অগ্রগতি খতিয়ে দেখা হয়। মুলতবি থাকা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর করা, মামলার তদন্ত ও বিচারের ফলাফল এবং আদালতে সাজার হার বৃদ্ধি সংক্রান্ত বিষয়গুলো নিয়ে সভায় বিশদ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন সব মহানগর পুলিশ কমিশনার, রেঞ্জ উপমহাপরিদর্শক ও বিভিন্ন জেলার পুলিশ সুপাররা। পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স প্রান্তে উপস্থিত ছিলেন অপরাধ ব্যবস্থাপনা শাখার উপমহাপরিদর্শক মোহাম্মদ আবু সুফিয়ানসহ ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন