মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর, ২০২৬,
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে আরও জোরালো আন্তর্জাতিক উদ্যোগের আহ্বান

জাতীয় ডেস্ক

অক্টোবর ৬, ২০২৬, ০২:২১ পিএম

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে আরও জোরালো আন্তর্জাতিক উদ্যোগের আহ্বান

মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের দ্রুত, নিরাপদ, স্বেচ্ছায় ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আরও জোরালো ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। মঙ্গলবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যুক্তরাজ্যের বাংলাদেশ বিষয়ক অল-পার্টি পার্লামেন্টারি গ্রুপের (এপিপিজি) চেয়ারপারসন আফসানা বেগমের নেতৃত্বে সফররত একটি প্রতিনিধিদল সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে এলে তিনি এই আহ্বান জানান।

একই সাথে তিনি সতর্ক করে বলেন, এই সংকট দীর্ঘায়িত হলে তা ব্যাপক নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করতে পারে এবং অবৈধ অভিবাসনকে উসকে দিতে পারে। মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বৈঠকের এই তথ্য জানানো হয়েছে। যুক্তরাজ্য প্রতিনিধিদলে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন হাউস অব কমন্সের সদস্য শওকত আদম এবং হাউস অব লর্ডসের সদস্য লর্ড কুরবান হোসেন। বৈঠকে হুমায়ুন কবির উল্লেখ করেন, দীর্ঘস্থায়ী রোহিঙ্গা সংকট এখন আর কেবল মানবিক উদ্বেগের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং এটি আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং অনিয়মিত অভিবাসনের ক্ষেত্রে আরও ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

সফররত প্রতিনিধিদলের বুধবার রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনে যাওয়ার কথা রয়েছে। বাস্তুচ্যুত এই জনগোষ্ঠীর দুর্দশা লাঘবে প্রতিনিধিদলের সদস্যরা তাদের সহযোগিতার কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তারা রোহিঙ্গাদের নিজ জন্মভূমিতে টেকসই প্রত্যাবাসন এবং মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখতে যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্ট ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে সোচ্চার থাকার প্রতিশ্রুতি দেন। প্রতিনিধিদলকে স্বাগত জানিয়ে হুমায়ুন কবির বাংলাদেশ-যুক্তরাজ্য সম্পর্ক জোরদার করার ক্ষেত্রে এপিপিজি-এর ধারাবাহিক আগ্রহের প্রশংসা করেন।

একই সঙ্গে তিনি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক সুসংহতকরণ ও সংস্কার উদ্যোগে যুক্তরাজ্য সরকারের সহযোগিতার বিষয়টি বিশেষভাবে তুলে ধরেন। তিনি যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্ট, বাংলাদেশ এবং ব্রিটিশ-বাংলাদেশি সম্প্রদায়ের মধ্যে একটি সেতুবন্ধন হিসেবে এপিপিজি-এর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা স্মরণ করেন। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বাংলাদেশের অগ্রগতি ও মাঠপর্যায়ের বাস্তব পরিস্থিতি তুলে ধরে যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টের সাথে আরও সম্পৃক্ততা বাড়াতে গ্রুপটির সরাসরি সহযোগিতা কামনা করেন। বৈঠকে সংসদীয় সহযোগিতা ও বিনিময়, গণতান্ত্রিক সুসংহতকরণ, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, অভিবাসন, দক্ষতা ও মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং মানবাধিকারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। এছাড়া উভয় পক্ষ আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক নানা ইস্যুতে পারস্পরিক মতামত বিনিময় করেন এবং দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষী ফোরামের মাধ্যমে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার বিষয়ে গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেন।