অক্টোবর ৬, ২০২৬, ০৫:৩৯ পিএম
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) সদ্য সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন করেছেন শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৩টা থেকে ক্লাবের সামনে জড়ো হয়ে এই কর্মসূচি পালন করেন তারা। সাবেক উপাচার্যকে অবিলম্বে পুনর্বহাল করা না হলে আগামীতে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। দীর্ঘদিন ধরে ক্যাম্পাসে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন চালিয়ে গেলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে দাবির কোনো সমাধান না পাওয়ায় তারা বাধ্য হয়ে আন্দোলন ক্যাম্পাসের বাইরে নিয়ে এসেছেন বলে জানান।
শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, তাদের যেখানে নিয়মিত শ্রেণিকক্ষে থাকার কথা, সেখানে বাধ্য হয়ে তাদের দীর্ঘ সময় ধরে রাস্তায় আন্দোলন করতে হচ্ছে। এতে তাদের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। দ্রুত এই সংকটের অবসান ঘটিয়ে শিক্ষার্থীদের ক্লাসে ফেরার মতো একটি অনুকূল পরিবেশ তৈরির জোর দাবি জানান তারা। এর আগে গত সোমবার আন্দোলনের ১৪তম দিনেও চুয়েটে অ্যাকাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ ছিল। একই সঙ্গে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের কর্মবিরতিও অব্যাহত থাকে। ওই দিন বেলা ১১টা থেকে তালাবদ্ধ উপাচার্য ভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে কর্মবিরতি পালন করেন শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। পরে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপাচার্য ভবনের সামনে থেকে একটি প্রতিবাদ র্যালি বের করেন তারা। র্যালিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধীনতা চত্বর প্রদক্ষিণ করে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গিয়ে শেষ হয় এবং সেখানে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়। চুয়েটের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ড. মো. মঈনুল ইসলাম মানববন্ধনে বলেন, অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে উপাচার্য পদে পুনর্বহালের সুনির্দিষ্ট দাবি জানিয়ে আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছি।
আমরা সরকারের কাছে আন্তরিক অনুরোধ জানাচ্ছি যেন শিক্ষার্থীদের মূল্যবান ছাত্রজীবন আর বিলম্বিত না হয়। তিনি আরও বলেন, আমরা অত্যন্ত অহিংস পন্থায় আন্দোলন করে যাচ্ছি। ক্যাম্পাসে কোনো ধরনের ভাঙচুর বা রাস্তা অবরোধের মতো ধ্বংসাত্মক কর্মসূচি আমরা পালন করছি না। সরকারের কাছে আমাদের উদাত্ত আহ্বান, আমাদের যৌক্তিক দাবি মেনে নিয়ে শিক্ষার্থীদের দ্রুত ক্লাসে ফিরে যাওয়ার সুনির্দিষ্ট পরিবেশ তৈরি করে দেওয়া হোক। উল্লেখ্য, এর গত ২১ সেপ্টেম্বর অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পদ থেকে সরিয়ে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমকে চুয়েটের নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র ৫৬ দিনের মাথায় উপাচার্য পরিবর্তনের প্রতিবাদে ওই দিন থেকেই ফুসে ওঠেন শিক্ষার্থীরা। পরদিন ২২ সেপ্টেম্বর থেকে ক্যাম্পাসে শুরু হয় টানা ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি। এরপর থেকেই ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন, বিক্ষোভ মিছিল, লাল কার্ড প্রদর্শন, মশাল মিছিল ও মুখোশ মিছিলসহ নানা কর্মসূচি পালন করে আসছেন শিক্ষার্থীরা। দাবি পূরণ না হওয়ায় চুয়েটে এখনো অ্যাকাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের লাগাতার আন্দোলনের কারণে পুরো বিশ্ববিদ্যালয়ে অচলাবস্থা দীর্ঘায়িত হচ্ছে। মঙ্গলবারের এই মানববন্ধনের মাধ্যমে আন্দোলন ক্যাম্পাসের বাইরে ছড়িয়ে পড়ার পর শিক্ষার্থীরা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তাদের এই লড়াই অব্যাহত থাকবে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন