ডিসেম্বর ২৫, ২০২৫, ০৫:১৪ পিএম
দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসিত জীবনের অবসান ঘটিয়ে আজ প্রিয় মাতৃভূমিতে ফিরেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার ২৫ ডিসেম্বর বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের পর তিনি সরাসরি রাজধানীর ৩০০ ফিট সড়কে আয়োজিত বিশাল গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেন।
সেখানে সমবেত লাখো জনতার উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এক আবেগঘন মুহূর্তে ব্যাখ্যা করেন যে কেন তিনি অসুস্থ মাকে দেখার আগে দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের সামনে উপস্থিত হয়েছেন।
তারেক রহমান বলেন যে সন্তান হিসেবে তাঁর মন পড়ে আছে হাসপাতালের বিছানায় থাকা মায়ের পাশে কিন্তু যে মানুষেরা খালেদা জিয়ার জন্য জীবন উৎসর্গ করেছেন তাদের ফেলে তিনি আগে কোথাও যেতে পারেন না।
বক্তৃতার এক পর্যায়ে তারেক রহমান বলেন যে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এই দেশের মাটি ও মানুষকে নিজের জীবনের চেয়ে বেশি ভালোবেসেছেন। তাঁর ওপর দিয়ে যে ঝড় বয়ে গেছে সে সম্পর্কে সবাই অবগত। একজন সন্তান হিসেবে তিনি দেশবাসীর কাছে তাঁর মায়ের সুস্থতার জন্য দোয়া প্রার্থনা করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে লক্ষ লক্ষ মানুষ যারা তাকে একনজর দেখতে এবং স্বাগত জানাতে দেশর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে এসেছেন তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করাকে তিনি তাঁর প্রধান কর্তব্য বলে মনে করেছেন। এ কারণেই হাসপাতালে যাওয়ার আগে তিনি সরাসরি সংবর্ধনা মঞ্চে উপস্থিত হয়ে টেলিভিশন ও সামাজিক মাধ্যমে যুক্ত থাকা কোটি মানুষের উদ্দেশে কথা বলছেন।
তারেক রহমান তাঁর বক্তব্যে ২০২৪ সালের আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের রক্তের ঋণের কথা স্মরণ করেন। তিনি বলেন যে ১৯৭১ এবং ২০২৪ এর আন্দোলনে যারা জীবন দিয়েছেন তাদের স্বপ্ন পূরণ করতে হলে একটি বৈষম্যহীন ও নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে। বাংলাদেশের মানুষ এখন কথা বলার অধিকার এবং গণতন্ত্র ফিরে পেতে চায় উল্লেখ করে তিনি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ওপর বিশেষ জোর দেন। তিনি বলেন যে এ দেশে মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান সবাই মিলে একটি শান্তিপূর্ণ সমাজ গড়বে যেখানে নারী ও শিশুরা নিরাপদে চলাচল করতে পারবে। তিনি বারবার দেশের শান্তির ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং তরুণ প্রজন্মকে আগামীর সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার কারিগর হিসেবে অভিহিত করেন।
এর আগে বিমানবন্দর থেকে বের হওয়ার সময় তিনি খালি পায়ে মাতৃভূমির মাটি স্পর্শ করেন এবং পরম মমতায় একমুঠো মাটি তুলে নেন। লাল-সবুজ রঙের বিশেষ বাসে চড়ে ৩০০ ফিট যাওয়ার পথে তিনি হাজার হাজার মানুষের ভালোবাসায় সিক্ত হন। উল্লেখ্য যে তাঁর সঙ্গে সফরসঙ্গী হিসেবে স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান, কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমান এবং তাঁদের আদরের বিড়াল জেবুও দেশে ফিরেছে। সংবর্ধনা মঞ্চে দেওয়া এই ঐতিহাসিক ভাষণ শেষ করার পরপরই তিনি সরাসরি এভারকেয়ার হাসপাতালে যাবেন তাঁর মা বেগম খালেদা জিয়াকে দেখার জন্য। তারেক রহমানের এই প্রত্যাবর্তন দেশের জাতীয় রাজনীতিতে এক নতুন প্রাণের সঞ্চার করেছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন