জানুয়ারি ২৫, ২০২৬, ০৪:৪২ পিএম
লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) প্রেসিডেন্ট কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম মোদির সেবাদাসদের হাত থেকে বাংলাদেশকে চিরতরে মুক্ত করার ডাক দিয়েছেন। তিনি বলেন, বর্তমানে সমাজে কোনো ইনসাফ নেই এবং বিরোধীরা নিজেদের দিল্লির সেবাদাস হিসেবে পরিচয় দিচ্ছে। এ ধরনের সেবাদাসদের হাতে দেশের দায়িত্ব তুলে দেওয়া যায় না।
আজ রোববার (২৫ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর গেন্ডারিয়ার ধূপখোলা মাঠে জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আয়োজিত ঢাকা-৬ আসনের নির্বাচনী জনসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান।
অলি আহমদ তার রাজনৈতিক জীবনের ইতিহাস তুলে ধরে বলেন, ১৯৭১ সালে তিনি সর্বপ্রথম পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছিলেন এবং শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে ফিরিয়ে এনেছিলেন।
তিনি আক্ষেপ করে বলেন, "আমাদের লক্ষ্য ছিল ন্যায়ভিত্তিক সমাজ ও অর্থনৈতিক মুক্তি, কিন্তু দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে ভারতের দালালরা দেশ চালিয়েছে।" ২০০১ সাল থেকে বিএনপির অনেক সিদ্ধান্তের সঙ্গে দ্বিমত পোষণের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার বা নাম পাল্টালেও দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি বন্ধ হয়নি। তিনি এই নির্বাচনকে ‘শেষ যুদ্ধ’ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, এটি হবে ১৯৭১ সালের স্বপ্ন বাস্তবায়নের যুদ্ধ—যেখানে ভারত বা দিল্লির কোনো দাসত্ব থাকবে না।
বিএনপির কঠোর সমালোচনা করে অলি আহমদ বলেন, "বিএনপি মহাসচিব বলেছিলেন যে ৫ আগস্টের মুভমেন্টে তাদের কোনো অংশগ্রহণ ছিল না। এর মানে হলো তারা শেখ হাসিনাকেই চেয়েছিল।" তিনি ভোটারদের আবেগের বশবর্তী না হয়ে বিবেক দিয়ে চিন্তা করার অনুরোধ করেন। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, "দালালদের ভোট দিলে হাসিনা যেভাবে অত্যাচার করেছিল, আপনারাও অনুরূপভাবে অত্যাচারিত হবেন।
এ সময় তিনি ঢাকা-৬ আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ড. আব্দুল মান্নান এবং ঢাকা-৮ আসনের প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরউদ্দীন পাটওয়ারীকে উপস্থিত জনতার সাথে পরিচয় করিয়ে দেন।জনসভায় উপস্থিত নেতাকর্মীদের উদ্দেশে অলি আহমদ বলেন, জাতির সঙ্গে যারা বেঈমানি করবে আল্লাহ তাদের ক্ষমা করবেন না। তিনি ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীদের বিজয়ী করার মাধ্যমে একটি ইনসাফভিত্তিক নতুন বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করার আহ্বান জানান। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ধূপখোলা মাঠ ও এর আশপাশের এলাকা নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে জনসমুদ্রে পরিণত হয়, যা নির্বাচনী প্রচারণায় জোটের এক বিশাল শক্তির মহড়া হিসেবে গণ্য হচ্ছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন