সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬, ১১:২২ পিএম
বিশ্ব শিল্পব্যবস্থার সাথে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যেতে দেশের প্রতিটি পর্যায়ে এবং সব পেশায় আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষ জনবল গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। এ লক্ষ্যে দেশ ও বিদেশের আধুনিক প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে সমন্বয় রেখে প্রশিক্ষণ কারিকুলাম উন্নয়ন এবং প্রশিক্ষণার্থীদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরিতে কাজ করছে সরকার। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) রাজধানী ঢাকার তেজগাঁওয়ে অবস্থিত বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্ট মিলনায়তনে বাংলাদেশ শিল্প কারিগরি সহায়তা কেন্দ্র আয়োজিত এক সনদ ও নিয়োগপত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
বেকারত্ব দূরীকরণে শ্রমঘন উৎপাদন খাতই প্রধান ভরসা। মন্ত্রী উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের বিপুল জনসংখ্যা এবং সীমিত ভূমির প্রেক্ষাপটে শ্রমঘন উৎপাদনমুখী শিল্পের সম্প্রসারণই অর্থনৈতিক উন্নয়নের সবচেয়ে কার্যকর পথ। যেসব খাতে তুলনামূলক কম মূলধন বিনিয়োগ করে বিপুল কর্মসংস্থান তৈরি করা সম্ভব, সরকার আগামী দিনগুলোতে সেগুলোকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেবে। বিশেষ করে চামড়া, পাদুকা এবং কৃত্রিম চামড়াভিত্তিক শিল্পে একসাথে বিশাল পরিসরে কাজের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে। দেশে উৎপাদন শিল্পের পরিধি যত বাড়বে, কারিগরি দক্ষতাসম্পন্ন প্রশিক্ষিত কর্মীর চাহিদাও তত বাড়বে বলে জানান বাণিজ্যমন্ত্রী।
বাংলাদেশ শিল্প কারিগরি সহায়তা কেন্দ্র সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নে নিবিড় প্রশিক্ষণ দিয়ে এই চাহিদা পূরণে কার্যকর ভূমিকা রাখছে। প্রশিক্ষণ শেষেই সরাসরি শিল্পকারখানায় কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হওয়া এই উদ্যোগের সবচেয়ে বড় সাফল্য। আগামী দিনে এই প্রকল্পের পরিধি আরও বাড়ানোর ঘোষণা দিয়ে মন্ত্রী জানান, ভবিষ্যৎ শিল্পের বাস্তব চাহিদা মাথায় রেখে প্রশিক্ষণ কারিকুলামে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ও রোবটিক্সের মতো অত্যাধুনিক বিষয় যুক্ত করা হবে।
প্রশিক্ষণার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, তিন মাসের এই প্রশিক্ষণ কর্মজীবনের একটি প্রাথমিক সূচনা মাত্র। এখান থেকে শৃঙ্খলার পাঠ নেওয়া গেলেও কর্মক্ষেত্রে প্রতিদিন নতুন বিষয় শেখা এবং অর্জিত দক্ষতাকে কার্যকরভাবে প্রয়োগ করার দায়িত্ব নিজেদেরই নিতে হবে। প্রতিকূল পরিস্থিতি পেরিয়ে সনদ ও কর্মসংস্থান নিশ্চিত করার পর এখন সামনে এগিয়ে যাওয়ার পথ নিজেদের প্রচেষ্টাতেই তৈরি করতে হবে।
কারিগরি দক্ষতা কোনোভাবেই সাধারণ উচ্চশিক্ষার চেয়ে কম মর্যাদার নয়। অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি শিল্প সচিব আব্দুন নাসের খান বলেন, কেবল একটি প্রশিক্ষণ শেষ করলেই দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনের সাথে সামঞ্জস্য রেখে প্রতিনিয়ত নতুন দক্ষতা অর্জন করতে হবে এবং নিজেকে হালনাগাদ রাখতে হবে। বিশ্বজুড়ে আধুনিক অর্থনীতি ও শিল্পায়নে কারিগরি পেশাজীবীদের অবদান অনস্বীকার্য হওয়ায় নিজেদের কাজ নিয়ে আত্মবিশ্বাসী হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
বাংলাদেশ শিল্প কারিগরি সহায়তা কেন্দ্রের মহাপরিচালক মো. সাইফুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্টের মহাপরিচালক মো. সলিম উল্লাহ এবং শিল্প মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. নুরুজ্জামান। শিল্প উদ্যোক্তাদের পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন আরএফএলের উপমহাব্যবস্থাপক তারেক আজিজ এবং ম্যাটাডোর গ্রুপের মহাব্যবস্থাপক এইচ এম আল মামুন।
আলোচনা পর্ব শেষে প্রধান অতিথি প্রশিক্ষণার্থীদের হাতে সনদ ও নিয়োগপত্র তুলে দেন। আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি ও দারিদ্র্য বিমোচন শীর্ষক প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়ে বিভিন্ন ট্রেডে প্রশিক্ষণ নেওয়া ৭২২ জনের মধ্য থেকে দেশের বিভিন্ন শীর্ষস্থানীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠানে ৬৪২ জনের তাৎক্ষণিক কর্মসংস্থান নিশ্চিত করে নিয়োগপত্র হস্তান্তর করা হয়।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন