জানুয়ারি ৩১, ২০২৬, ০৬:০০ পিএম
আগামী ২ ফেব্রুয়ারি সোমবার খুলনায় আসছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণার অংশ হিসেবে ওইদিন সকাল ১০টায় খুলনা মহানগরীর খালিশপুর থানাধীন প্রভাতী স্কুল মাঠে আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে ভাষণ দেবেন তিনি। সর্বশেষ ২০০৪ সালে খুলনায় একটি প্রতিনিধি সভায় যোগ দিয়েছিলেন তিনি।
দীর্ঘ ২২ বছর পর শিল্পনগরী খুলনায় তার এই আগমনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ সমর্থকদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা এবং প্রাণচাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।
খুলনা মহানগর বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে শুক্রবার রাতে শীর্ষ নেতাদের এক বিশেষ বৈঠকে তারেক রহমানের এই সফরের কর্মসূচি চূড়ান্ত করা হয়। বৈঠকে খুলনা-২ আসনের প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু এবং খুলনা-৩ আসনের প্রার্থী রকিবুল ইসলাম বকুলসহ জেলার অন্যান্য সংসদীয় আসনের প্রার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
বিএনপি নেতারা লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন যে এই জনসভায় খুলনা মহানগর জেলা এবং পার্শ্ববর্তী জেলাগুলো থেকে অন্তত ৮ লাখ মানুষের সমাগম ঘটানো হবে। মূলত এই সমাবেশের মাধ্যমে দক্ষিণবঙ্গে বিএনপির সাংগঠনিক শক্তির এক বিশাল মহড়া প্রদর্শনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। জনসভা সফল করতে ইতোমধ্যে আবাসন শৃঙ্খলা ও মিডিয়াসহ ৬টি বিশেষ উপকমিটি গঠন করা হয়েছে।
মহানগর বিএনপির সভাপতি শফিকুল আলম মনা সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে তারেক রহমানের এই সফর কেবল একটি নির্বাচনি প্রচার নয় বরং এটি তৃণমূল নেতাকর্মীদের মনোবল ফিরিয়ে আনার এক বড় মাধ্যম। দীর্ঘদিন পর দলের সর্বোচ্চ নেতার সরাসরি উপস্থিতিতে খুলনার রাজনৈতিক সমীকরণে বড় ধরনের প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন তারা। সমাবেশের জন্য ঢাকা থেকে আধুনিক সাউন্ড সিস্টেম ও বিশাল মঞ্চ নিয়ে আসা হচ্ছে। ইতোমধ্যে নগরীর অলিগলিতে প্রচার মাইকিং শুরু হয়েছে এবং নেতাকর্মীরা ওয়ার্ড ভিত্তিক গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। তারেক রহমানকে বরণ করতে খুলনার প্রবেশদ্বারগুলোতে অসংখ্য তোরণ ও ব্যানার টানানো হয়েছে।
এদিকে বিএনপি চেয়ারম্যানের আগমন ঘিরে খুলনার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসনের পক্ষ থেকেও কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। গোয়েন্দা নজরদারির পাশাপাশি সমাবেশস্থল ও আশপাশের এলাকায় মোতায়েন থাকবে অতিরিক্ত পুলিশ ও আনসার সদস্য। বিজিবি সদস্যরাও টহলে নিয়োজিত থাকবেন যাতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা তৈরি না হয়। মহানগরীর যানজট নিয়ন্ত্রণে ট্রাফিক বিভাগের পক্ষ থেকেও বিশেষ নির্দেশনা জারির প্রস্তুতি চলছে। সাধারণ ভোটারদের মাঝে তারেক রহমানের এই সফর নতুন আশার সঞ্চার করেছে এবং ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের আগে এটি বিএনপির জন্য একটি বড় টার্নিং পয়েন্ট হিসেবে কাজ করবে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন